প্রসঙ্গ :পেন্সিলে আঁকা পরী

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১০

হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকতেই আমি তার কাছ থেকে ‘পেন্সিলে আঁকা পরী’র অনুমতি নিয়েছিলাম। স্যার মারা যাওয়ার পর ব্যাপারটি তার পরিবারের সদস্যদের কাছে বলেছি। তাদের কাছ থেকে ভালোভাবে অনুমতি নিয়েই অনুদানের জন্য জমা দিয়েছিলাম। তারপরও তারা কেন এটা নিয়ে জল ঘোলা করল? অনুদানের জন্য ছবিটি জমা দেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে অর্থনৈতিক বিষয়ে কথা হয়নি। যেহেতু হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সবার সঙ্গে আমার বেশ ভালো সম্পর্ক, তাই এ নিয়ে পরে কথা বললেই হবে। এরপর যখন অনুদান পেলাম, ছবির বাজেট হলো, তখন কথা ছিল বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কথা বলব। যখন আলাপ হলো, তখন তাদের দুই পরিবারের পক্ষ থেকে যে শর্ত দেওয়া হলো, তাতে করে আমার পক্ষে ছবিটি নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। কারণ ছবিটি নির্মাণের জন্য সরকার ৬০ লাখ টাকা দিচ্ছে। এই টাকার সঙ্গে সমপরিমাণ টাকা আরো বিনিয়োগ করতে হবে। তাদের এত এত শর্ত মানতে পারব না।

‘পেন্সিলে আঁকা পরী’ নির্মাণ না করার কারণ প্রসঙ্গে

নির্মাতা অমিতাভ রেজা

চিত্রনাট্য জমা দেওয়ার সময় তিনি লিখিত অনুমতি নিয়েছেন। কিন্তু লিখিত অনুমতি আর লিগ্যাল অনুমতি এক জিনিস নয়। লিখিত অনুমতিতে কপিরাইট ভ্যালুর বিষয়টি ছিল না। নির্মাণের আগে দু-পক্ষের পাকা কন্ট্রাক্ট হবে। সেখানে কপিরাইট ভ্যালুর সবকিছু উল্লেখ থাকবে। লেখক, কবি বা চিত্রশিল্পীর শিল্পকর্মের একটি মূল্য থাকে। সে ক্ষেত্রে হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সবাই মিলে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখানে আসলে শর্তের কিছু নেই, নিয়মের কথাই বলেছি। আমরা বলেছি, দেশে নয়, বিদেশের কোনো বড় প্লাটফর্মে সিনেমাটি প্রদর্শিত হলে সেখান থেকে আমাদের রয়্যালিটি দিতে হবে।

তাছাড়া অমিতাভ রেজা ‘পেন্সিলে আঁকা পরী’র মতো একটি গল্প যে বাজেটে নির্মাণ করতে চেয়েছেন সেটা আমাদের কাছে সম্মানজনক ও গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। আর আমাদের কাছে যা মানানসই মনে হয়েছে, সেটা নাকি তার বাজেটের বাইরে। তাই তিনি নির্মাণ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

‘পেন্সিলে আঁকা পরী’ নির্মাণে হুমায়ূন পরিবারের অবস্থান প্রসঙ্গে অভিনেত্রী শাওন