করোনাকালের পরে বাউলের গানে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল শিল্পকলা একাডেমি চত্বর। গতকাল মধু পূর্ণিমার রাতে শিল্পকলা একাডেমির খোলা চত্বরে বসেছিল সাধুসঙ্গ। সাধকদের কাছে লালনের গান শুধু সুরে বসানো শব্দমালা নয়, তাদের কাছে লালনের গানের বাণী হচ্ছে জীবন-জিজ্ঞাসার অন্বেষণ। ধর্ম, কুল, জাত বিভেদের বালাই নেই বাউলদের কাছে। সন্ধ্যা নামতেই মুখরিত হয়ে ওঠে শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত আঙিনা। বটতলায় বসা সেই বাউল আসরকে ঘিরে ভিড় জমায় অনুরাগী শ্রোতা-দর্শক। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত আঙিনায় অনুষ্ঠিত হলো সাধুমেলা নামের এই লোকগানের আসর। মধু পূণিমা উপলক্ষ্যে বাউলকুঞ্জে অনুষ্ঠিত আয়োজনটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপারে তুই মূল হারাবি, মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’। প্রতি মাসের পূর্ণিমা তিথিতে একাডেমি আয়োজিত ধারাবাহিক সংগীতাসরের ৩০তম পর্ব ছিল।
দেশের নানা প্রান্তের লালনভক্তরা অংশ নেন এই লোকসংগীতানুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে সমীর বাউলের ‘এলাহি আলমিন গো’ গানটি দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর শিল্পকলা একাডেমির বাউল দল গেয়ে শোনায় ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’ ও ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’। আকলিমা বাউল শুনিয়েছেন, ‘ও যার নাম শুনিলে আগুন জ্বলে’। জহুরা ফকিরানী গেয়েছেন ‘তুমি বা কার কে বা আমার’। টুনটুন বাউল শুনিয়েছেন ‘তিন পাগলে হলো মেলা’। নয়ন শীল গেয়ে শোনান ‘যদি ত্বরিতে বাসনা থাকে’। আয়নাল গেয়েছেন ‘ডুবে দেখ দেখি মন’। রোকসানা আক্তার রূপসা শুনিয়েছেন ‘খাচার ভিতর অচিন পাখি’। ‘না জানি ভাব নদী’ গেয়েছেন আধারী মিলন। ফারজানা আফরিন ইভা শুনিয়েছেন ‘যার ভাবে মুড়িয়াছি ভাব’। গরিব মুক্তার গেয়েছেন ‘যেখানে সাঁইর বারামখানা’। বিমল চন্দ্র দাশ শুনিয়েছেন ‘না জানি কোন সময়’। লতিফ শাহ পরিবেশন করেন ‘এই দেশেতে এই সুখ হলো’। দিতি সরকার শোনান ‘কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দহ’। এছাড়া একক কণ্ঠে গান শোনান কিরণ চন্দ্র রায়, হামিদা পারভীন, মাসুদ সামিম এবং এম আর মানিক।
এই সংগীতায়োকজনের পরিকল্পক ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন লালন গবেষক ড. আবু ইসহাক, বিটিভির মহাপরিচালক সোহরাব হোসেন, সোহাইলা আফসানা ইকো প্রমুখ।
দুই মাসব্যাপী আর্ট অ্যাপ্রিসিয়েশন
কোর্সের উদ্বোধন
শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের আয়োজনে গতকাল শুরু হয়েছে দুই মাসব্যাপী দ্বিতীয় আর্ট অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স। একাডেমির চারুকলা ভবনের সেমিনার কক্ষে কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন একাডেমির সচিব মো. আসাদুজ্জামান, চারুকলা বিভাগের পরিচালক সৈয়দা মাহবুবা করিম, কোর্স পরিচালক শিল্পসমালোচক মইনুদ্দিন খালেদ। প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এই কোর্স। কোর্সটির সমন্বয়কারী চারুকলা বিভাগের গাইড মো. মাহাবুবুর রহমান সুজন। ঢাকায় অবস্থানরত ৫০ জন শিক্ষার্থী এবং জেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে যুক্ত হয়ে কোর্সে অংশ নিচ্ছেন। কোর্সে প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন সমরজিত্ রায়সহ দেশের স্বনামধন্য শিল্পী ও গবেষকেরা।
