কারাগারে ফাঁসির আসামির সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে তথ্য চেয়েছে হাইকোর্ট

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:২০

কনডেম সেলসহ কারাগারের বিভিন্ন সেলে বন্দি আসামিদের কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে সে সংক্রান্ত প্রতিবেদন চেয়েছে হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে তা আদালতকে অবহিত করতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলা হয়েছে। ফাঁসির আসামিদের কনডেম সেলে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত রিটের শুনানিকালে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ তথ্য চান। একই সঙ্গে রিটের শুনানি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতুবি করে আদালত।

শুনানিতে রিটকারী পক্ষের কৌঁসুলি মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, মানুষের মধ্যে অপরাধ করার প্রবণতা বেড়েছে। তেমনি বেড়েছে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের হার। ফলে ডেথ রেফারেন্স মামলার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে যথাসময়ে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দেড় যুগের মতো কনডেম সেলে থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সুনীল বাত্রা মামলার রায়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে একজন আসামিকে কনডেম সেলে রাখতে হবে। ঐ রায়ের পর ভারতে ছয়টি প্রদেশে তা কার্যকর করা হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ফাঁসির আসামিদের আলাদা কক্ষে রাখা হয়। মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে আসামির অপরাধের নির্মমতা, ভয়াবহতাকেই বিবেচনা করা হয়। আদালত বলে, ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করার আগে প্রথমে চিন্তা করতে হবে মৃত্যুদণ্ড দেব কি না? মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন দেওয়াটা হলো ব্যতিক্রম। ভারতে কিন্তু এই আইনটা পরিবর্তন করে ফেলেছে। আমরা পরিবর্তন করিনি। আমাদের প্রথমেই বলতে হবে ফাঁসি দিতে হবে। কেন দিলাম না এজন্য বিচারকদের কারণ দেখাতে হয় রায়ে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, জেলখানায় এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বন্দিরা টাকা দিয়ে ক্যান্টিনে খেতে পারেন। মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। হাইকোর্ট বলে, রিট আবেদনকারীদের উদ্বেগ হলো, ফাঁসি হয়েছে বলেই যে একজন আসামিকে আমরা অন্ধকার প্রকোষ্টে দিনের পর দিন রাখব, বিষয়টা যেন সেরকম না হয়। যতক্ষণ ফাঁসি চূড়ান্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ যেন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়। যতটুকু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া সম্ভব, সেটা দেওয়ার যেন চেষ্টা করা হয়। সরকার মনে হয় এ বিষয়ে কতগুলো উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলো আদালতের রেকর্ডে থাকলে ভালো হয়। এর পরই হাইকোর্ট ৩১ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দেন।