বন্ধুত্ব রক্ষায় অর্থগচ্চা!

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:১৬

 

নিজ দেশে মার্কিন সৈন্য পুষতে দক্ষিণ কোরিয়াকে এখন বাড়তি অর্থ গুণতে হচ্ছে। বন্ধুত্ব বলে কথা। আর সে কারণেই নিরবে দেশটিকে তা সইতে হচ্ছে। অবশ্য সিউলের হাতে এ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্পও খোলা নেই। তাই বাধ্য হয়েই দক্ষিণ কোরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য তাদের দেশে রাখতে হচ্ছে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সৈন্যের খরচ নিয়ে দুইদেশের মধ্যে কথাবার্তা হয়। এ নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উভয় দেশ ভাগাভাগির মাধ্যমে এ খরচ মেটাতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে হিসাব-নিকাশ কষে দেখা গেছে, এতে দক্ষিণ কোরিয়াকেই অতিরিক্ত অর্থের যোগান দিতে হবে।

এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন সৈন্যদের খরচ ভাগাভাগি নিয়ে তারা উভয়েই সম্মত হয়েছেন। তারা আশা করছেন, এর মাধ্যমে দুইদেশের মধ্যে যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে তা সামনে আরো মজবুত ও দৃঢ় হবে। নতুন এ সমঝোতায় সিউলকে বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় করতে হবে। ২০১৪ সালের সর্বশেষ চুক্তিতে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনাকে নিজের দেশে রাখার বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে বছরপ্রতি ৮৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয় করতে হতো। গত বছর ওই চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর মার্চ থেকে ১০ দফা বৈঠক করেও দুই মিত্র দেশ ওই চুক্তি নবায়ন নিয়ে সমঝোতায় আসতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে দুইদেশের মধ্যে একধরনের অদৃশ্য দূরত্বও সৃষ্টি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা দূর হয়ে যায়। কিন্তু দূরত্ব ঘুচলেও এ বাড়তি অর্থ যোগান নিয়ে কোরিয়ার সাধারণ মানুষের মাঝে একধরনের ক্ষোভ কিংবা অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের বক্তব্য, এভাবে মার্কিন সৈন্যদের ব্যয়ভার আর কতদিন বহন করতে হবে।

১৯৫০-৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের সময় থেকেই কোরিয়া উপদ্বীপের দক্ষিণ অংশটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে। কোরীয় যুদ্ধ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত এই সৈন্যের বিশাল ব্যয়ভার বহন করতে হচ্ছে দেশটিকে। দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, তারা ইচ্ছে করলেও এর বিপরীতে যেতে পারছে না। কারণ এতে করে নাখোশ হবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এ নিয়ে দেশটির ওপর আরো চাপ বাড়তে থাকে। তাই সেই বিবেচনায় দুইদেশের মধ্যে বন্ধুত্ব এখন অন্তর্দ্বন্দ্বে পরিণত হচ্ছে। যদিও এর বাহ্যিক প্রকাশ আমরা সরাসরি দেখতে না পারলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ নিয়ে দুইদেশের মধ্যে যে দর কষাকষি বা সমঝোতায় আসতে দীর্ঘসূত্রতা তারই ইঙ্গিত বহন করছে।

সিউলের একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানায়, ২০১৯ সালের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার একশ’ কোটি ডলারের কাছাকাছি খরচের প্রস্তাবে ওয়াশিংটন সম্মতি দিয়েছে। তবে এবার আর আগের মতো ৫ বছর মেয়াদি চুক্তি হচ্ছে না, নতুন এ চুক্তি হচ্ছে কেবল এক বছরের জন্য। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে জানা গেছে।