নিশ্চিহ্নের পথে আইএস!

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:১৭

বরকতুল্লাহ সুজন

 

যুদ্ধক্ষেত্র এখন একটাই। সিরিয়ায় দেইর আলঝোর এলাকা। যেটা আইএসের সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। সেখানে চলছে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্ধর্ষ জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস এবং যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সিরীয় বাহিনীর তুমুল লড়াই। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই যুদ্ধে জয়ী হতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘোষণা দিতে চান আইএস জঙ্গিদের চূড়ান্ত পরাজয়। তিনি বলেছেন, সব জায়গাতেই আইএস নিশ্চিহ্নের পথে।

তবে যুদ্ধক্ষেত্রে জঙ্গিদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত যোদ্ধারা। তারা বলছেন, ইরাক সীমান্তবর্তী ছোট্ট ওই এলাকায় জীবন বাজি রেখে লড়াই করছে আইএসের সবচেয়ে অভিজ্ঞ যোদ্ধারা। দুই বছর আগে তাদের নেতৃত্বেই খিলাফত প্রতিষ্ঠার নামে সিরিয়া ও ইরাকের বিশাল অঞ্চল দখল করে গিয়েছিল জঙ্গিরা। ধারণা করা হচ্ছে, সিরীয় ও ইরাকি বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে ওইসব এলাকা থেকে পালিয়ে সীমান্তবর্তী দেইর আলঝোরে নিরাপদ আশ্রয় নেয় দুর্ধর্ষ জঙ্গিরা।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সিরীয় গ্রুপটির নাম দেয়া হয়েছে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স বা এসডিএফ। এই বাহিনীর মুখপাত্র মুস্তাফা বালি। সংবাদ সংস্থা এপিকে তিনি জানিয়েছে, ‘দেইর আলঝোরে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে প্রচণ্ড সংঘাত চলছে। এই যুদ্ধে যারা টিকে আছে, তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা আর রসদের জোরেই টিকছে। সংঘর্ষের বর্বরতা ও ব্যাপকতা বাইরে থেকে আন্দাজ করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়’। মুস্তাফা বালি আরো জানান, তাদের লক্ষ্য এখন একটাই। আর তা হলো আইএসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন। যুদ্ধক্ষেত্রে এসডিএফকে সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিমান হামলা।

২০১৪ সাল ছিল আইএসের স্বর্ণবছর। জঙ্গিদের ঘোষিত খিলাফতের পরিধি ছিল বর্তমান যুক্তরাজ্যের সমান এবং প্রায় ৮ কোটি মানুষের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। আইএস জঙ্গিদের অধিকাংশই আর নেই দাবি করে গত ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন সিরিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা। তার ওই ঘোষণা ব্যাপক সমালোচিত হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানান, আইএস পুরোপুরি নির্মূল হওয়ার আগে সিরিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। এরপরই দেইর আলঝোরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এই যুদ্ধের আসল লক্ষ্য সিরিয়ার আমেরিকার সৈন্য প্রত্যাহার ত্বরান্বিত করা। ব্যাপক যুদ্ধ চলায় দেইর আলঝোর থেকে পালাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। তাদের অনেকেই আইএস জঙ্গিদের পরিবারের সদস্য। এরই মধ্যে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে নিরাপদে পালানোর পথ করে দিয়েছে এসডিএফ।

এদিকে, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম বলছে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলাকায় ছোট পরিসরে আইএসের প্রভাব ও দখলদারিত্ব এখনও রয়ে গেছে। কেবল সিরিয়ায় নয়, ইরাকের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাও রয়েছে জঙ্গিদের। জাতিসংঘের হিসেবে, ইরাক ও সিরিয়ায় সক্রিয় রয়েছে ১৪ থেকে ১৮ হাজার জঙ্গি। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশি তিন হাজার যোদ্ধা। উপরন্তু এখনও জানা যায়নি আইএস কর্তৃক জিম্মিদের পরিণতি। যাদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক জন ক্যান্টলাই। সেই সাথে আইএস জঙ্গিদের নেতা আবু বকর আল বাগদাদির অবস্থান সম্পর্কেও পরিষ্কার নয় কেউই।