কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর ধনঞ্জয় গ্রামে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীর হাতে শহিদ ৩৭ নারী-শিশু-পুরুষের গণকবর। তবে শহিদদের পরিবার ছাড়া অন্য কেউ মনে রাখেনি তাঁদের। আর তাই তো এই গণকবরের ওপর নির্মিত সৌধটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। কতজন, কত রাষ্ট্রীয় ব্যানারের প্রতিষ্ঠান এখানে এসেছে, আশ্বস্ত করেছে এখানে নান্দনিক ডিজাইনের সমাধি সৌধ প্রতিষ্ঠা করবে। স্বাধীনতা কিংবা বিজয় দিবসে শহিদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এজন্য নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বর্তমান সমাধিকে ঘিরে ১০ ফুট বাই ১০ ফুট জায়গা খালি রেখেছেন। অপেক্ষাও চলছে বছরের পর বছর!
গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী ধনঞ্জয়ের মনির হোসেন মোহন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলছিল। ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় দু’কিলোমিটার দূরের এই গ্রাম। মুক্তিযোদ্ধাদের ছিল অবাধ যাতায়াত। কুমিল্লা শহর ছাড়াও কাছাকাছি ভুবনঘর, আমড়াতলী, সুবর্ণপুর আর কোটেশ্বরে ছিল পাকবাহিনীর ক্যাম্প। দিনটি ছিল শনিবার। হঠাত্ ফজরের নামাজের আগ থেকেই চারদিকে গোলাগুলি শুরু হয়। গ্রামবাসী যে যেভাবে পেরেছে সীমান্তের ওপাড়ে চলে গেছে। পিছু হটে মুক্তিবাহিনীও। তবে বন্ধ হয়নি দু’পক্ষের গোলাগুলি। একসময় ধনঞ্জয় গ্রামে উপস্থিত হয় পাকবাহিনী। তখন বেলা ১০টা-১১টা হবে। এসেই মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতি সন্দেহে সরাফত আলীর মাটির দুটি ঘর ঘেরাও করে ফেলে। এসময় ঘরে থাকা লোকজনের কেউ কেউ প্রাণ বাঁচাতে সিলিংয়ে উঠে যায়। তখন ঘরের দরজা ভেঙে পাকবাহিনী নির্বিচারে গুলি চালালে একে একে প্রাণ হারায় তারা। তিনি এ সময় কাকতালীয়ভাবে বেঁচে যান মাটির ঘর থেকে বের হয়ে পাশের ধানখেতে গিয়ে।
মামশাদ কবীর
সিন্দুরিয়াপাড়া, ময়নামতি, কুমিল্লা
