তৃণমূল পর্যায় থেকে মহাপরিকল্পনার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:৫৫

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যত্রতত্র ভবন, রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ রোধ এবং কৃষি জমি রক্ষার লক্ষ্যে সকল উপজেলাকে সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসার জন্য একটি মাস্টারপ্লান প্রণয়নে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে মহাপরিকল্পনা করে কাজ করলে মানুষের কাছে সেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পরিদর্শন এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, মাস্টার প্লানের লে-আউটে আবাসন, হাসপাতাল, মার্কেট, স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠ, কৃষি-খামার, শিল্প কারখানা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। আমরা যদি যথাযথভাবে এটি করতে পারি, তাহলে জনগণ এটি গ্রহণ করবে।

৬০টি জেলা গঠনে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে বঙ্গবন্ধু প্রতিটি জেলাকে একটি প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে তৈরি করেন। যাতে তৃণমূল পর্যায় থেকে আমরা উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারি। শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এবং সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে স্থানীয় জনগণের চাহিদা পূরণে সরকার পৃথকভাবে প্রতিটি জেলায় উপজেলায় বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করছে। এতে প্রতিটি উপজেলার আকার, জনসংখ্যা এবং ভৌগোলিক সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। দেশের উন্নয়নে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ, তাদের স্থানীয় সরকার উন্নয়ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা এবং সব উন্নয়ন টেকসই করার লক্ষ্যে তার সরকার প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ করতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছি এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে। এলজিআরডি মন্ত্রণালয় যদি যথাযথভাবে কাজ করে তাহলে আমরা ব্যাপক আকারে দারিদ্র্য নিরসন করতে সক্ষম হবো। আর দেশকে যদি আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারি তাহলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে উন্নয়নের সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। তবে গ্রাম ও শহরে বসবাসকারী মানুষের মৌলিক চাহিদা বিবেচনা করে পরিকল্পনা নিতে হবে। তিনি বলেন, এলজিআরডি একটি বড় মন্ত্রণালয়। এর বাজেট এবং কর্মকাণ্ডও অনেক বেশি। এ জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে এই মন্ত্রণালয়ের আওতায় অনেক কাজ সম্পন্ন করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, চাষযোগ্য সব জমি যেন চাষের আওতায় আসে এবং পল্লীর মানুষের আয় বাড়াতে তারা যেন সমবায় ব্যবস্থায় তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারে এলক্ষ্যে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামরিক শাসকরা বিজয়ী জাতি হিসেবে জনগণের আত্মশক্তি ধ্বংস করে দিয়েছে। এ জন্য তারা তাদের নিজ অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করতে উত্সাহী ছিল না। এরফলে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে নেতিবাচকভাবে চিত্রায়িত হয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে দেশ স্বাধীন করেছেন; কিন্তু তিনি এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। এ জন্য দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে হবে আমাদেরকে পল্লী এবং দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সচিব এসএম গোলাম ফারুক এবং মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পরিচালকের বিদায়ী সাক্ষাত্

বিশ্বব্যাংকের বিদায়ী আবাসিক পরিচালক কিমিয়াও ফ্যান বলেছেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। কিমিয়াও ফ্যান গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর জাতীয় সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে বিদায়ী সাক্ষাত্কালে এ আশ্বাস দেন। সাক্ষাত্ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

বিশ্বব্যাংকের আবাসিক পরিচালক গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অসাধারণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দারিদ্র্যবিমোচনে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করেন। প্রেস সচিব বলেন, আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুও উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকার দেশের উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে উল্লেখ করে বলেন, ‘১৯৭৫-এর পর এ উন্নয়ন সামরিক শাসকদের হাতে চরমভাবে অবহেলিত হয়েছে।’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সরকার তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন নিরলসভাবে কাজ করছে।’ 

শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাংকের আবাসিক পরিচালককে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে তিনি কিভাবে মায়েদের প্রণোদনা দেয়ার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করেছেন তা অবহিত করেন। বেসরকারি খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, তাঁর সরকার বেসরকারি খাতে সকল ক্ষেত্র উন্মুক্ত করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।