অবশেষে গ্রামীণফোনকে সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি) ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। এই ঘোষণার মধ্যদিয়ে গ্রামীণফোন অন্তত ৮ ধরনের বিধিনিষেধে পড়ছে। এখন অন্য অপারেটরের চেয়ে সেবার মান তাদের বাড়াতে হবে। কোনো সিদ্ধান্ত অমান্য করলে জরিমানার সুযোগও থাকছে। এমনকি অন্যদের চেয়ে কলরেট ও ইন্টারনেটের দামও বাড়াতে হবে। ফলে টেলিকম সেক্টরে গ্রামীণফোনের যে মনোপলি ব্যবসা এবার সেটা ভাঙছে।
কি ধরনের বিধিনিষেধে পড়তে যাচ্ছে গ্রামীণফোন? এমন প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক গতকাল রবিবার ইত্তেফাককে বলেন, ‘কেবল তো এসএমপি অপারেটর ঘোষণা করা হলো। অন্তত ৮টি বিধিনিষেধে তাদের পড়তে হবে। খুব শিগগিরই আমরা তাদের প্রতি নির্দেশনা জারি করব। এটা নিয়ে কাজ হচ্ছে।’
এসএমপি অপারেটর ঘোষণা হওয়ায় অন্যদের চেয়ে গ্রামীণফোনকে কলরেট ও ডেটার দাম বাড়িয়ে দিতে হবে, প্যাকেজ সংখ্যা কমাতে হবে, নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে, কলড্রপের হার অন্য অপারেটরের চেয়ে কম নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। এমন অন্তত ৮ ধরনের শর্ত দেওয়া হবে গ্রামীণফোনকে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এসব সিদ্ধান্ত গ্রামীণফোন না মানলে তাদের জরিমানা করার সুযোগও থাকছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে।
গত নভেম্বরে এসএমপি নীতিমালায় অনুমোদন দেয় সরকার। ওই মাসেই এটি গেজেট আকারে প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়, বাজারে মোবাইল অপারেটরগুলোসহ এ খাতে লাইসেন্সধারী কোনো কোম্পানিকে এসএমপি ঘোষণায় তার গ্রাহক, রাজস্ব এবং স্পেকট্রামসহ অন্যান্য সম্পদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। যেখানে কোনো কোম্পানি যদি এর যে কোনো একটি মানদণ্ডে মোট বাজারের ৪০ শতাংশ দখল বা নিয়ন্ত্রণ করে তাহলে সে এসএমপি হিসেবে বিবেচিত হবে। কোনো কাজে বাজারে প্রতিযোগিতা কমিয়ে দেয়ার সম্ভাবনা থাকলে তা শুরু করার আগে বিটিআরসি অনুমতির দরকার হবে। সেক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, ভোক্তাদের সুনির্দিষ্ট কল্যাণ, অন্য প্রতিযোগীর অধিকার ক্ষুণ্ন না করা ও সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতি দেখে অনুমতির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এসএমপি হিসেবে চিহ্নিত কোম্পানির করণীয় ও বর্জনীয় নিয়ে নির্দেশনা দেবে বিটিআরসি।
গতকাল গ্রামীণফোনের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, তাদের করণীয় ও বর্জনীয় সংক্রান্ত নির্দেশ শিগগিরই জানানো হবে। চিঠিতে বলা হয়, গ্রামীণফোনকে এসএমপি ঘোষণা করা হচ্ছে। গ্রাহক ও রাজস্ব দুই ক্যাটাগরিতেই এসএমপিতে পড়েছে গ্রামীণফোন। এসএমপি ঘোষিত হতে প্রবিধানমালার যে ৪০ শতাংশ বাজার শেয়ারের সীমা রয়েছে সেখানে দুই ক্যাটাগরিতেই তাদের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ৪৭ শতাংশ গ্রাহক গ্রামীণফোনের আবার ৫০ শতাংশের বেশি রাজস্ব তাদের। প্রবিধানমালার তৃতীয় ক্যাটাগরি স্পেকট্রামের বিষয়টি আলোচনায়ই আসেনি। কারণ এই মুহূর্তে কোনো অপারেটরেরই ৪০ শতংশ স্পেকট্রাম নেই।
কয়েকদিন আগে এসএমপি নিয়ে কথা বলতে সাংবাদিকদের ডেকেছিল গ্রামীণফোন। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স সাদাত হোসেন বলেছেন, কাস্টমারের জন্য বাজারে সঠিক প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ রাখা দরকার। গ্রামীণফোন উপার্জন করছে, রেভিনিউ শেয়ার করছে, লভ্যাংশের ওপর ট্যাক্সও দিচ্ছে। এখন বিধিনিষেধ আরো করা হলে এর প্রবৃদ্ধি কমে যাবে, এতে লভ্যাংশও কমে যাবে। সাদাত হোসেন বলেন, ‘গ্রামীণফোন বড় হয়েছে বলে তাদের জন্য এক রেট হবে আর অন্যদের আরেক রেট হবে- এটা তো স্বচ্ছ হলো না। এটা তো গ্রামীণফোনের অপরাধ না যে, বছর বছর সঠিক সময়ে সঠিক বিনিয়োগ করে এই পর্যন্ত এগিয়ে আসলো।’
