রয়টার্স
মিয়ানমারের সামরিক শাসনবিরোধী মিলিশিয়াদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর লড়াইয়ের কারণে ভারত সীমান্তবর্তী একটি শহরের অধিকাংশ বাসিন্দা পালিয়ে গেছে। সেনাবাহিনীর ছোড়া গোলায় শহরটির অনেক ভবনে আগুন ধরে গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
এমনিতে চীন রাজ্যের থান্টল্যাং শহরে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাস করে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই আশ্রয়ের খোঁজে আশপাশের এলাকাগুলোতে এবং কিছু লোক প্রতিবেশী ভারতে পালিয়ে গেছে বলে স্থানীয় এক সমাজপ্রধান জানিয়েছেন। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই মিয়ানমার জুড়ে অশান্তি চলছে। সামরিক শাসন শুরু হওয়ার পর দেশ জুড়ে ক্ষোভ, বিক্ষোভ, ধর্মঘট, প্রতিবাদ, অবশেষে জান্তাবিরোধী মিলিশিয়ার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। গত রবিবার থান্টল্যাংয়ে মিলিশিয়া বাহিনীগুলোর সঙ্গে সেনাবাহিনীর লড়াই চলাকালে প্রায় ২০টি বাড়িতে আগুন লাগে, সামাজিক মাধ্যমে আসা ছবিতে ভবনগুলোতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। সৈন্যরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে যাওয়া এক খ্রিষ্টান যাজককে গুলি করে হত্যা করে বলে মিয়ানমার নিউজ পোর্টালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই খবরের বিরোধিতা করা হয়েছে। গ্লোবাল নিউ লাইট মিয়ানমার বলেছে, ঐ যাজকের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে আর প্রায় ১০০ ‘সন্ত্রাসী’ সৈন্যের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালানোর পর দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে।
স্থানীয় সমাজের নেতা সালাই থাং জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে মিলিশিয়া যোদ্ধারা সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটি দখল করার পর সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালিয়ে জবাব দেয়। সম্প্রতি চার বেসামরিক নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
