গুটি বসন্তের শেষ মহামারি

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৩:১৬

পৃথিবীতে শেষবার গুটিবসন্তের বড় মাপের মহামারী হয়েছিল ১৯৭৪ সালে ভারতে। হাজার হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছিল সেই মহামারীতে। উত্তর প্রদেশ এবং বিহারে এক লাখ দশ হাজার মানুষ গুটিবসন্তে আক্রান্ত হয়েছিল। মারা গিয়েছিল ২০ হাজারের মত মানুষ। আক্রান্ত রোগীদের একেবারে বিচ্ছিন্ন করে সেই মহামারী সামাল দেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৪ সালের গুটিবসন্তের সেই মহামারী ঠেকাতে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছিলেন ড. মহেন্দ্র দত্ত এবং ড. ল্যারি ব্রিলিয়ান্স। এই দুই চিকিত্সক সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করেছেন।

১৯৭৪ সালে ভারতের সেই মহামারী ঠেকাতে নজিরবিহীন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এক কোটি গুটিবসন্তের টিকা দেওয়া হয়েছিল। ১০ লাখ সুই ব্যবহার করা হয়েছিল। ছয় লক্ষ গ্রামের ১২ কোটি বাড়িতে গিয়ে গিয়ে গুটিবসন্তের রোগীর সন্ধান করা হয়েছিল। এ কাজে লাগানো হয়েছিল ১,৩৫,০০০ স্বাস্থ্যকর্মী। মারাত্মকভাবে আক্রান্ত বিহার রাজ্যে সেই উদ্যোগের নেতৃত্বে ছিলেন ড. মহেন্দ্র দত্ত। দুটো দল কাজ করছিলো। একটি দলের কাজ ছিল নতুন রোগী খুঁজে বের করা, অন্য দলটির কাজ রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা। 

ড. ল্যারি ব্রিলিয়ান্স ছিলেন সে সময় ভারতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সেই কর্মসূচির একজন কর্মকর্তা। তিনি জানান, ১৯৭৪ সালে ভারতে যত মানুষ গুটিবসন্তে আক্রান্ত হয়েছিল, অতীতে কোনো একটি দেশে একসাথে এত রোগী দেখা যায়নি। কিন্তু টিকা দেওয়া নিয়ে প্রতিরোধ ছিল অনেক। ড. দত্ত বলছেন, জীবন বাঁচাতে তারা অনেক সময় কঠোর সব পন্থা নিতেন। বিশেষ করে উপজাতীয় এলাকাগুলোতে যখন মানুষজন টিকা নিতে অস্বীকার করতো, আমরা অনেক সময় কাঁটাতার দিয়ে ছয় সপ্তাহের জন্য পুরো গ্রাম ঘিরে ফেলতাম। তারপর একেক করে সবাইকে টিকা দেওয়া হতো।

ড. ল্যারি বলেন, তিনি এবং তার কজন সহকর্মী তখন টাটানগর গিয়ে যা দেখলেন, তা তিনি সারা জীবন ভুলতে পারবেন না। ট্রেন স্টেশনে নেমে দেখলাম প্লাটফর্মে এবং আশপাশে কাঠের স্তূপের মত মৃত শিশুদের স্তূপ। টিকেট কাটছে এমন একজনকে দেখলাম তার হাতে গুটিবসন্তের চাকা। আমি ভাবলাম, এই লোক এখন ট্রেনে চেপে হয়তো হাজার মাইল দূরে তার গ্রামে ফিরে যাবে এবং সেখানে গিয়ে এই জীবাণু ছড়াবে। 

১৯৮০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষণা করে, পৃথিবী থেকে গুটিবসন্ত নির্মূল হয়েছে। বিশ্বে সেই প্রথম কোনো রোগ এভাবে নির্মূল করা হয়েছিল।