ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রাশিয়ায়। তেল উত্পাদন প্রতিষ্ঠান পিডিভিএসএ তার গ্রাহকদের তেলের অর্থ রাশিয়ার একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে বলেছে। কোম্পানিটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের একটি বোর্ড থেকে মার্কিন নাগরিকদের অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভেনিজুয়েলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখেছেন। খবর রয়টার্সের
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে অর্থ সংকটে ফেলতে গত ২৮ জানুয়ারি তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদো সমপ্রতি ঘোষণা করেন যে, তেলের আয় পেতে একটি তহবিল গঠন করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রসহ ৩০টি দেশ গুয়াইদোকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাদুরো গুয়াইদোকে মার্কিন পুতুল বলে উল্লেখ করেছেন যিনি অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ। জানা গেছে, সমপ্রতি রাশিয়ার গজপ্রমব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছে পিডিভিএসএ। কোম্পানিটির সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে ব্যবসা করে নরওয়ের ইকুইনোর এএসএ, যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন এবং ফ্রান্সের টোটাল এসএ। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ব্যবসা সম্পর্কে তাদের নতুন কিছু নীতির কথা জানিয়েছেন পিডিভিএসএ’র অর্থ বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো ডে কুইন্টাল। এর আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল যুক্তরাষ্ট্রে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে। তবে গজপ্রমব্যাংক পিডিভিএসএ’র নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার কথা অস্বীকার করেছে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, সমপ্রতি পিডিভিএসএ নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট খোলেনি। কয়েক বছর আগে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
মার্কিনীরা অপসারিত হচ্ছেন
পিডিভিএসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিটগো পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পরিচালনা পর্ষদে থাকা অন্তত দুইজন মার্কিন সদস্যকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে মাদুরো সরকার। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, হিউস্টন ভিত্তিক সিটগো’র বোর্ডে আর্ট ক্লেইন এবং রিক এসার নামের দুই মার্কিনী আছেন। তাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
খোলা চিঠি মাদুরোর
প্রেসিডেন্ট মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের ভেনিজুয়েলা নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশ্যে লেখা একটি খোলা চিঠিতে বলেছেন, মার্কিন সরকার তার সন্তানদের মারতে ভেনিজুয়েলায় পাঠাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিথ্যা কথা বলে ভেনিজুয়েলায় হস্তক্ষেপ এবং আক্রমন করতে চান। ইরাক যুদ্ধের মতো গণতন্ত্রের নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নাগরিকদের বিভ্রান্ত করছেন।
