একটি যুগোপযোগী উদ্যোগ

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১১

কল্পনা করিতে কেমন লাগে যে ঢাকা শহরে মধ্যরাতে একজন মানুষ পকেট ভরিয়া টাকা লইয়া হাঁটিয়া যাইতেছে, কিন্তু কোনো ছিনতাইকারী নাই! অথবা একটি মেয়ে হাঁটিয়া যাইতেছে তাহাকে কেহ উত্ত্যক্ত করিতেছে না! এই বিষয়কেই বাস্তবে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ লইয়াছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আশা জাগাইবার মতো উদ্যোগই বটে। মন্ত্রণালয় গোটা রাজধানীকে সার্বক্ষণিক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় আনিতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করিয়াছে। এই প্রকল্পের অধীনে ৫০টি থানা এলাকায় বসিবে ১৬ হাজার সিসি ক্যামেরা। এই ক্যামেরার আওতায় সার্বক্ষণিক ভিডিও মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকিবে। ক্যামেরা স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হইলে এমনকি গভীর রাত্রিতেও নির্জন স্থানে অপরাধ সংঘটিত হইলে তাহা পুলিশের চক্ষু এড়াইবে না। এই প্রযুক্তিতে থাকিবে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম। সেই সঙ্গে চেহারা শনাক্ত করিবার ফেস আইডেনটিটি) প্রযুক্তি সন্নিবেশিত থাকিবার কারণে কোনো অপরাধী পার পাইবে না বলিয়াও পুলিশ কর্তৃপক্ষ আশা ব্যক্ত করিয়াছেন। সংশ্লিষ্টরা আরো আশা প্রকাশ করিয়াছেন, ইহার মাধ্যমে তাহারা অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামাইয়া আনিতে পারিবেন। ইতিমধ্যেই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হইতে সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হইয়াছে। এই প্রকল্পের নাম ‘ডেভেলপমেন্ট অব ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম অব ঢাকা’। ইহাতে খরচ হইবে ৩ হাজার কোটি টাকা। জানা গিয়াছে, প্রকল্পটি শীঘ্রই একনেকে উপস্থাপিত হইবে। একনেকে পাশ হইলে পরিচালক নিয়োগসহ আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন হইলেই ক্যামেরা বসাইবার কাজ শুরু হইবে। সেই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ ইহাও জানাইয়াছে যে, ১ হাজার ক্যামেরা ট্রাফিক সিগন্যালে শৃঙ্খলা ফিরাইয়া আনিবার জন্য ব্যবহূত হইবে। স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল হইবার কারণে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে রেকর্ড তৈরি হইবে, যাহার ফলে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তদবির অথবা উেকাচের সমস্যাও দূর হইবে।

ইহা সত্যিই একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত বলিয়া আমরা মনে করি। একদিকে ঢাকায় লোকসংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়িতেছে, সেই সঙ্গে হইতেছে অবকাঠামোর উন্নয়ন। একের পর এক তৈরি হইতেছে ফ্লাইওভার, সমাপ্তির পথে রহিয়াছে মেট্রোরেল। ফলে অপরাধও বাড়িয়া যাইবার আশঙ্কা রহিয়াছে। একটি মেগা শহর যতই বড় হইতে থাকে তত বিচিত্র অপরাধ আসিয়া হাজির হয়। সুতরাং এই উদ্যোগ যত দ্রুত বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়, ততই ভালো। ইহার যে কত রকম ইতিবাচক ফল পাওয়া যাইবে, তাহা বলিলেও শেষ হইবে না। আমরা জানি, উন্নয়নশীল বিশ্বের মেগা শহরগুলিতে অপরাধ একটি বড় সমস্যা। পশ্চিমা বিশ্বে অপরাধ থাকিলেও তাহার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত। আর এই কারণেই উন্নয়নশীল দেশগুলির মহানগরে পর্যটক আসিতে নিরুত্সাহিত হইয়া থাকে। অপরাধের কারণে এমনকি দেশি ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়-বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইয়া থাকে। এই ঢাকা মহানগরের প্রায় ২ কোটি মানুষের বিপরীতে মাত্র ২৬ হাজার ৬৬১ জন পুলিশ সদস্য কর্মরত রহিয়াছেন। স্বভাবতই তাহারা মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করিতে হিমশিম খাইতেছেন। অপরাধের পিছনে ছুটিতে না হইলে তাহারা জনগণকে আরো অধিক ক্ষেত্রে সেবা প্রদান করিতে পারিবে। সুতরাং আমরা গভীরভাবে আশা করিব, অতি শীঘ্রই ইহা বিনা জটিলতায় একনেকে পাশ হইবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকল্প সম্পন্ন করিবেন। কাহারোই অজানা নহে যে, ঢাকা শহরের নিরীহ বাসিন্দাদের মধ্যে সর্বদাই জানমালের নিরাপত্তাসংক্রান্ত একটি আতঙ্ক কাজ করে। ইহা মানুষের স্বাভাবিক চিন্তা ও কাজকর্মেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই চমত্কার উদ্যোগটি সম্পন্ন হইলে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নয়ন ঘটিবে, মানুষ স্বস্তি বোধ করিবে। সেই সঙ্গে অবশ্যই বহির্বিশ্বেও আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি লইয়া প্রশংসিত সংবাদ প্রকাশ হইবে, বিভিন্ন দেশের সরকারও প্রশংসা করিবে।