ট্রেনের ছাদে ওঠা বন্ধ হোক

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:২৯

ট্রেনের ছাদে উঠে ভ্রমণের ফলে যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে। বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার একটা আশঙ্কা থেকেই যায়। ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ১২৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি বিপজ্জনক বা বেপরোয়া কার্যের দ্বারা অথবা অবহেলা করে কোনো যাত্রীর জীবন বিপন্ন করে, তবে তার এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা জরিমানা কিংবা উভয় প্রকার দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। ছাদে ভ্রমণকারী এবং ভ্রমণে উত্সাহ ও সহযোগিতা প্রদানকারীও সমান অপরাধী। ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে কেউ কেন  ভ্রমণ করেন, তার কারণ খুঁজতে গেলে দেখা যাবে কেউ শখের বশে, কেউবা টিকিট না পেয়ে, কেউ বিনা টিকেটেই ভ্রমণের আশায়। শুধু বিভিন্ন উত্সবের সময়ই নয়, সারা বছরই ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে দেখা যায়। ছাদ ছাড়াও ট্রেনের বাফারে ও ইঞ্জিনে অবৈধভাবে ভ্রমণ করে থাকে। ছাদে ভ্রমণের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোতে। রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল বিভাগ এরকম ১২টি স্টেশন চিহ্নিত করেছে। স্টেশনগুলো হলো—জয়দেবপুর, বঙ্গবন্ধু পশ্চিম, ঈশ্বরদী, রাজশাহী, সান্তাহার পার্বতীপুর, লালমনিরাহাট, বোনারপাড়া, বগুড়া, পঞ্চগড়, রংপুর ও দিনাজপুর। ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিতে হবে কর্তৃপক্ষকে। কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া যাবে না। ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের জন্য জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।

মানুষের সচেতনতা বাড়াতে পারলে এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সহজ হবে। অনেকে চলন্ত অবস্থায় ট্রেনের দরজা-জানালা দিয়ে ছাদে ওঠেন। এই চর্চা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রেনের ছাদে থাকা পানির ট্যাংকিতে প্রস্রাব-পায়খানাও করে অনেক ছাদযাত্রী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনসচেতনতা ছাড়া বন্ধ করা কঠিন। মানুষের অভ্যাস পালটাতে হবে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে। আইন প্রয়োগের কঠোরতা তো থাকতেই হবে।

আবির হাসান সুজন, শিক্ষার্থী,

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা