ঢাকার দোহার উপজেলায় মৈনট ঘাটের অদূরে পদ্মা নদীর মূল প্রবাহে অবৈধভাবে আড়াআড়ি বাঁশের ‘ব্লক বাঁধ’ দিয়ে কিছুদিন যাবত অবাধে মাছ শিকার করছিল স্থানীয় প্রভাবশালী মুরাদ মৃধা ও আবুল কাশেম নামে দুই ব্যক্তি। গতকাল রবিবার সকালে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে বাঁধটি অপসারণের কাজ শুরু করে দোহার উপজেলা প্রশাসন, মত্স্য অধিদপ্তর ও কোস্টগার্ড।
স্থানীয়রা জানান, বাঁশ ও জালের দীর্ঘ এই বাঁধ নদীর মূল প্রবাহে আড়াআড়িভাবে তৈরি করা হয়েছিল। বাঁশের সঙ্গে আটকানো জালের নিচে ভারি পাথর বাঁধা। নিচের অংশে রয়েছে ‘রাক্ষুসে জাল’। এমন জাল ইলিশ ধরার ফাঁদ হিসেবে ব্যবহূত হয়। আড়াআড়ি এমন বাঁধে নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
সেখানে কর্মরত মত্স্যজীবীরা জানান, প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর জালগুলোতে মাছ ধরা পড়েছে কি না তা দেখা হয়। ইলিশ, ছোট ছোট জাটকাসহ সবই ধরা পড়ছে এ জালে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেখানে দায়িত্বে থাকা জেলেরা বলেন, ‘মুরাদ মৃধা ও কাশেম মেম্বার আমাদেরকে মাছ ধরার কাজে খাটাচ্ছেন। কোনো কোনো দিন ১০/১৫ মণ মাছ ধরা পড়ে। আবার কোনো দিন চার-পাঁচ মণ মাছ পাওয়া যায়। বেশির ভাগ মাছ দোহারের মৈনট ঘাটে বিক্রি করা হয়।’ মৈনট ঘাটের এক মাছ ব্যবসায়ী জানান, এভাবে নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারের কারণে সাধারণ জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। বাঁধটি ভেঙে দেওয়ায় প্রশাসনকে আমি সাধুবাদ জানাই।
দোহার উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান খান বলেন, মাছ শিকারে নদীতে এভাবে বাঁধ দেওয়া দেশের প্রচলিত মত্স্য আইনের পরিপন্থি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবাসহ কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
