নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সবুজ বাংলা মাল্টিপারপাস নামক সমিতির বিরুদ্ধে স্থানীয় কৃষকদের কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সমিতির প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃশ্ব হয়ে পড়েছেন এলাকার সহজ সরল কৃষকরা। ওই সমিতির প্রতারকদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান ও টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিতে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা রবিবার দুপুরে রূপগঞ্জ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, প্রায় ১০ বছর আগে রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বাগবেড় এলাকায় সবুজ বাংলা মাল্টিপারপাস নামক ওই সমিতি গড়ে তোলেন স্থানীয় মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে যুবদল নেতা রুহুল আমিন। সমিতির নামে একটি ব্যাংকও খোলা হয়। ওই ব্যাংকে টাকা রাখলে অধিক লাভ হবে বলে স্থানীয় কৃষকদের আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর কৃষকরা পূর্বাচল উপশহরের প্লট বিক্রিসহ আশপাশের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের কাছে জমি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা ওই ব্যাংকে রাখেন। কিন্তু ১০ বছর পার হয়ে গেলেও লাভের টাকা দেওয়াতো দূরের কথা, আসল টাকাই ফেরত দিচ্ছে না। প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা রুহুল আমিনের কাছে বার বার ধরনা দিলেও কোনো কাজ হয়নি। অনেক গ্রাহককে প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। গ্রাহকরা বলেন, বর্তমানে নিজের অপরাধ ঢাকতে রুহুল আমিন যুবদল নেতা থেকে যুবলীগ নেতা বনে গেছে। যুবলীগ নেতা হওয়ার পর থেকে রুহুল আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগের একাধিক মামলা রয়েছে। থানায় রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করার পরও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী এ সব কৃষকরা। বাধ্য হয়ে তারা থানার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন।
তবে পুলিশ প্রশাসন প্রতারণার শিকার গ্রাহকদের টাকা ফেরত এবং প্রতারক রুহুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে তারা শান্ত হন।
ইতোমধ্যে স্থানীয় নিশিকান্তের ৪ লাখ টাকা, আতাবরের ১ লাখ ২৪ হাজার, শহর আলীর ৫ লাখ, বাতেন মোল্লার ২ লাখ, নাবিয়ার ১ লাখ ৮০ হাজার, কামরুন্নাহারের ৫০ হাজার, সোনাবানুর ২ লাখ ২০ হাজার, রহিমার ২ লাখ, মিনারার ৪ লাখ ৭৫ হাজার, নিলুফারের ৪ লাখ, প্রিয়াংকার ৫০ হাজার, শান্তিরঞ্জন ৮৫ হাজার এবং আনোয়ারা বেগমের ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে রূপগঞ্জ থানায় মামলা ও জিডি এবং নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা করা হয়েছে।
উপজেলা সমবায় বিষয়ক অফিসার হাফিজা বেগম বলেন, আমার কাছেও এ সব অভিযোগ এসেছে। গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে সবুজ বাংলা মাল্টিপারপাস দায়িত্বরত কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। চাপের মুখে পড়ে সে কিছু টাকা পরিশোধও করেছে। সকলের টাকা পরিশোধ না করলে আমাদের পক্ষ থেকেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
