ভবদহ শুধু যশোর নয়, যশোর-খুলনাসহ আশেপাশের সব মানুষের জন্য মরণফাঁদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিগত অর্ধ শতাব্দী ধরে ভবদহ অঞ্চলের মানুষ বর্ষা মৌসুমে পানিবন্দি থাকেন। গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে পানির নিচে নিচে তলিয়ে গেছে ভবদহ অঞ্চলের শত শত ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়। যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর ও খুলনার ফুলতলা-ডুমুরিয়া উপজেলার লাখ লাখ মানুষ ভবদহের বিলের পানি নিষ্কাশন সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুঃখ-কষ্টে জীবনযাপন করছেন। পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় বিপর্যস্ত এখানকার জনজীবন। স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে অনেক জায়গায় তৈরি করেছেন বাঁশের সাঁকো। বৃষ্টি ও বানের পানি উঠে এসেছে বাড়ির উঠোন ও ঘরে। পানিবন্দি মানুষকে বসবাস করতে হচ্ছে ব্যাঙ আর সাপের সঙ্গে। পানি বেড়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়ছে মাটির ঘরগুলো। ভেসে গেছে এলাকার প্রায় সমস্ত মাছের ঘের।
অব্যবস্থাপনার কারণে এই পরিণতি। ভবদহ গেটে বাঁধ দিয়ে সেচের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেচে কীভাবে এই জলাবদ্ধতা সমাধান করা সম্ভব তা বোধগম্য নয়। এখানে দরকার টি আর এম প্রকল্প। তা হলেই মিলতে পারে মুক্তি। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পানি বেড়েছে তিন থেকে চার সেন্টিমিটার। ভারী বর্ষণে গত দু দিনে এখানকার বিল কেদারিয়া ও বিল বোকড় এলাকায় পানি বেড়েছে। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বিলাল মাহিনী, নির্বাহী সম্পাদক, ভৈরব সংস্কৃতি কেন্দ্র, যশোর
