নেত্রকোনা জেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শতকরা ২৮ ভাগ বেশি বোরো চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। নেত্রকোনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকারিয়া মোস্তফা বৃহস্পতিবার বলেন, জেলায় বোরো সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৩ হাজার ৫৩৮ টন। সরকার কর্তৃক মনোনীত মিলারদের কাছ থেকে কেনা হয়েছে ৫৬ হাজার ৭৯ টন। অতিরিক্ত কেনা হয়েছে ১২ হাজার ৫৪১ টন। এছাড়া বোরো আতপ চাল কেনা হয়েছে ৩ হাজার ৭৩৯ টন। লক্ষ্যমাত্র অর্জনের পাশাপাশি আরো অতিরিক্ত ১২ হাজার টন চাল বেশি ক্রয় করা সম্ভব হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন বলেন, যখন বাজারে চাল ও ধানের দাম বেড়ে যাচ্ছিল তখন মিলারদের সরকারি গুদামে চাল সরবরাহে সমস্যা সৃষ্টি হলে আমরা মিলাদের সঙ্গে বৈঠক এবং আলাপ আলোচনা করে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য মিলারদের চাপ দেই। পরে মিলাররা লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চাল সরবরাহ করেন। পরে আরো অধিক চাল প্রদানের জন্য বলা হলে তারা আরো ১২ হাজার ৫৪১ টন অতিরিক্ত চাল সরকারি গুদামে প্রদান করেন। এতে করেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৮ ভাগ বেশি চাল সরকার ক্রয় করতে পেরেছে। যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে নেত্রকোনা চাল কল মালিক সমিতির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজি এইচ আর খান পাঠান সাকি বলেন, প্রথম দিকে ধানের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়াতে চাল সরবরাহে মিলাররা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন। পরে মিলারদের আন্তরিকতার কারণে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় মিলাররা শুধু লক্ষ্যমাত্রাই পূরণ করেননি, অতিরিক্ত আরো ১২ হাজার টন চাল সরবরাহ করেছেন।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ধান চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, সরকারের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক চাল গুদামে সরবরাহের জন্য জেলার ২১০ জন মিলারের সঙ্গে বেশ কয়েক বার মতবিনিময় করা হয়। পরেই মিলাররা দ্রুত চাল সরবরাহ করেন।
