আমরা যেন ইন্টারনেটের দাস না হই

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৪

করোনার ভয়াল থাবায় থমকে গেছে জনজীবন। বেঁচে থাকার লড়াইও কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থায় বাংলাদেশের তরুণেরা কোন পথে ধাবিত হচ্ছে সেটি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ করোনার মধ্যে তারা সময় অতিবাহিত করছে অনলাইন গেমিং, টিকটক, লাইকির মতো ইন্টারনেটনির্ভর বিভিন্ন অ্যাপসে এবং মাদক তো রয়েছেই। ডিজিটাল আসক্তি মাদকের মতোই নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারে বাধা দিলে তরুণদের মধ্যে একধরনের অস্থিরতা দেখা যায়। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিভিন্ন বয়সের তরুণেরা ঝুঁকে পড়ছে অনলাইন প্ল্যাটফরমের ওপর। এই প্রবণতা দিনদিন বাড়ছেই। ভয়ংকরভাবে বাড়ছে মাদক সেবন ও ক্রয়-বিক্রয়। গণমাধ্যমে অনলাইন অ্যাপগুলো বন্ধ করার বিষয়ে অনেক তোলপাড় দেখা গেছে। কতটুকু কার্যকর হয়েছে তা? কারণ আশপাশে তাকালে এখনো তরুণদের জোট দেখা যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হলেও এই আসক্তি থেকে তরুণদের বের করে আনা কঠিন হয়ে যাবে। অনেক আগেই অধিকাংশ তরুণ ইন্টারনেটের ওপর আসক্ত হয়ে পড়েছে।

ইন্টারনেট উন্মুক্ত ও নিয়ন্ত্রণহীন প্ল্যাটফরম, যেটাকে সবাই ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনমতো ব্যবহার করতে পারে, কোনো বিশেষ পরিচয়পত্র ছাড়াই। শুধু তরুণেরাই নয়, অবসর সময়ে সবাই কমবেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে। সামাজিক যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, তথ্য আদান-প্রদান ইত্যাদি ইতিবাচক দিকে ইন্টারনেট ব্যবহার ন্যায়সংগত। তবে অনলাইন বিনোদন নির্ধারিত বিরতিহীন সময়ে উপভোগ করা অনুচিত। অবসর কাটাতে অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার করার কারণে নেটিজেনদের মধ্যে অনেক নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থী থেকে বিভিন্ন বয়েসের লোকজন রয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে সৃজনশীলতার ঘাটতি, সাইবার বুলিং, শারীরিক অক্ষমতা, রাতে ঘুম না হওয়া, ঘাড়ে ব্যথা ও চোখের সমস্যা। একটি সাধারণ মানের স্মার্টফোনে অনলাইন অ্যাপগুলো পরিচালনা করা দুরূহ। তাই তারা পিতামাতার ওপর চাপ প্রয়োগ করে দামি স্মার্টফোন কিনে দিতে বাধ্য করে। ফলে বাড়ছে অনলাইন অপরাধ প্রবণতা। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফাঁসানো হচ্ছে নারীদের। পাচার চক্রের ফাঁদে পরে তারা বিভিন্ন দেশে পাচার হয়ে যায়। প্রতিনিয়ত অর্থ আদায়, নির্যাতন, ধর্ষণ, পতিতাবৃত্তি ও পর্নোগ্রাফির শিকার হচ্ছে তারা। তবে ইন্টারনেট কি আমাদের জন্য শুধুই ক্ষতিকর? আসল কথা হলো, এটাকে আমরা যে যেভাবে ব্যবহার করছি, সেইরূপ ফল পাচ্ছি।

বর্তমানে দেশে ১৭ কোটি জনগণের মধ্যে মোবাইল গ্রাহক সাড়ে ১৬ কোটির বেশি। ২০২০ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক ১১ কোটি। ২০২১ সালের তথ্যানুযায়ী, অর্ধেক ইন্টারনেট ব্যবহূত হচ্ছে পর্নোগ্রাফি, টিকটক ও পাবজির মতো অনলাইন গেমিংয়ে। তাছাড়া ফেসবুক, ইউটিউব তো আছেই। সর্বোপরি আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা যেন ইন্টারনেটের দাস হয়ে না যাই। ইন্টারনেট ব্যবহারে পিতামাতাকে সতর্ক হতে হবে এবং সন্তানদের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। সন্তান ইন্টারনেটে আসক্ত হচ্ছে কি না, খেয়াল রাখতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে। আমরা সবাই নিজে থেকে সচেতন থাকলেই ইন্টারনেট নামক আলাদিনের চেরাগ উপকারে আসবে। নইলে চেরাগের দাস হয়েই থাকতে হবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, সরকারি বরিশাল কলেজ, বরিশাল