ই-কমার্স জালিয়াতি প্রতিরোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা রয়েছে

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৪

দেশের ই-কমার্স জালিয়াতি প্রতিরোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিভাবে সময়মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অথচ প্রচলিত আইনেই এগুলো সমাধান করা যেত। গতকাল শনিবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংলাপে এ খাতের সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও আইনজীবী এ মন্তব্য করেন।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান, আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম, ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হুসাইন, বিডি জবসের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর, ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ তমালসহ অন্যরা।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, এ ধরনের জালিয়াতি আগেও হয়েছে। নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা ও সুশাসনের অভাবেই এমন হচ্ছে। কোনো জালিয়াতি রাতারাতি হয়ে যায় না, এগুলো অনেক সময় নিয়ে করা হয়। সেলিম আর এফ হুসাইন বলেন, ই-কমার্স নতুন একটি শিল্প। ই-কমার্সে যা কিছু ঘটেছে, তাতে একক কাউকে দোষ না দিয়ে বলা যায়, এখানে সবারই দোষ ছিল। যে টাকা লোপাট হয়েছে, এখন জরুরি সে টাকা ফিরিয়ে আনা।

আবদুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, আমরা তিন বছর আগেই সরকারকে বলেছিলাম এ ধরনের একটা জটিলতা তৈরি হতে পারে। ই-কমার্সে যে স্বচ্ছতা নেই, তা সরকারকে জানানো হয়েছিল। ইভ্যালিসহ অন্যদের বিজনেস মডেল নিয়ে অনেক সমস্যা আছে। কিন্তু তখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা বলেছিলাম একটা সেন্ট্রাল মনিটরিং ব্যবস্থা তৈরি করতে, একটা সমন্বয় রাখতে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যে মনিটরিং সেল রয়েছে সেটাকে আরো উন্নত করা প্রয়োজন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মধ্যে বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম বলেন, চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। এই ইভ্যালিকে ই-কমার্স মুভার্স অ্যাওয়ার্ডও দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের জার্সিতে ইভ্যালিকে প্রমোট করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, প্রচলিত আইনেই এর সমাধান রয়েছে। সংকট হলো আইন প্রয়োগে। তার মতে নতুন আইনের প্রয়োজন নেই। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়িয়ে এই সংকট থেকে উত্তোরণ সম্ভব। তিনি বলেন, যাদের আইন প্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া আছে তারা তা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিযোগিতা আইন রয়েছে কিন্তু প্রতিযোগিতা কমিশন বসেছিল, তারা কোনো পদক্ষেণ নেয়নি। ভোক্তা অধিকার আইনে প্রায় ১৭ হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে। কিন্তু তাদের এত অভিযোগ সমাধান করার মতো লোকবল ছিল না। এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক যে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল সেটা নিতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতি যেটি লক্ষ করা গেছে সেটি হলো নেতৃত্বে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রথমে ইভ্যালির একাউন্ট ফ্রিজ করল। এক মাস পরে আবার সেটি খুলে দেওয়া হলো। কোনো অনিয়ম দেখলে তারা সে সময়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারত।

ওয়েবিনারে খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা এবং এ বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, দেশে প্রচলিত বিভিন্ন আইনেই ই-কমার্স খাতে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা যায়। তাই ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে আলাদা  কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই। ভার্চুয়াল সংলাপে চালডাল ডটকমের সিইও ওয়াসিম আলিম বলেন, আলাদা আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলে ই-কমার্স খাতের ভবিষ্যত্ আরো কঠিন হয়ে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও এ খাত পরিচালনায় আলাদা কোনো সংস্থা নেই। বিডি জবসের সিইও ফাহিম মাশরুর বলেন, ই-কমার্সে শৃঙ্খলা আনতে হলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আরো কার্যকর করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটিকে জবাবদিহি করা এখন সময়ের দাবি। প্রয়োজনে তাদের শক্তিশালী করতে হবে। কিন্তু দেশে নতুন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাই না।