নারী অধিকার রক্ষা আন্দোলনের বিশিষ্ট নেত্রী কমলা ভাসিন পরলোকে

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪৫

নারী অধিকার রক্ষা আন্দোলনের বিশিষ্ট নেত্রী কমলা ভাসিন (৭৫) প্রয়াত হয়েছেন। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। তার ফুসফুসে পানি জমে ছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার রাত ৩টার দিকে নয়াদিল্লিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কমলা ভাসিন। নারীবাদী এ কবি, লেখক, সংগঠক তিন দশক ধরে            ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জেন্ডার, উন্নয়ন, শান্তি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কাজ করেন।

ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ায় ‘ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং’ আন্দোলনের পুরোভাগে থাকা কমলা লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। কমলার মৃত্যুতে দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসৌদিয়া, মানবাধিকার আন্দোলনের কর্মী প্রশান্ত ভূষণ, হর্ষ মান্দারসহ বহু বিশিষ্টজন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। কবি ও বহু গ্রন্থের লেখিকা কমলা নিজেকে ‘প্রশিক্ষণ নেওয়া সমাজবিজ্ঞানী’ বলতে ভালোবাসতেন।

১৯৭০ সাল থেকে ভারতসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে নারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সোচ্চার কমলা ভাসিন তার লেখা বইয়ের মধ্যে এনেছেন মানুষের কথা, লড়াইয়ের কথা। যার মধ্যে রয়েছে ‘সতরঙ্গি লাড়কে’, ‘সতরঙ্গি লাড়কিয়া’ ইত্যাদি। এসব বইয়ে পিতৃতান্ত্রিক সমাজকাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন কমলা।

২০০২ সালে তিনি ‘সংগত’ নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা প্রত্যন্ত ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের নিয়ে কাজ করে থাকে। সংগত-এর মাধ্যমে কমলা প্রান্তিক আদিবাসী নারীদের প্রশিক্ষিত করার কাজ করতেন।

কমলা ভাসিনের জন্ম ১৯৪৬ সালের ২৪ এপ্রিল। দেশভাগের পর তার পরিবার ভারতের রাজস্থানে চলে আসে। হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর করে কমলা পশ্চিম জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। জার্মানির ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট ওরিয়েন্টেশন কেন্দ্রে বেশ কিছুদিন কাজ করে কমলা দেশে ফিরে আসেন।

লিঙ্গ তত্ত্ব, সমতা, মানবাধিকার, পুরুষতন্ত্র নিয়ে লেখা কমলার বইগুলো অন্তত ৩০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভরে উঠেছে একের পর এক শোকবার্তায়। কমলা ভাসিন বাংলাদেশেও জনপ্রিয় ছিলেন। তাকে নিয়ে নারী আন্দোলনকর্মী শিরিন হক বলেন, কমলা প্রায়ই বাংলাদেশে আসতেন এবং বাংলাদেশে নারী আন্দোলনকে সাম্প্রতিক সময়ে সক্রিয় রাখতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

‘ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং’ আন্দোলনের সহকর্মী খুশি কবীর ইত্তেফাককে বলেন, নারী ধর্ষণের শিকার হলে কেন তার লজ্জা হবে এমন কথা অকপটে বলতেন কমলা।

‘সংগত’ এর সদস্য জেন্ডার প্রশিক্ষক ফওজিয়া খন্দকার ইভা বলেন, ‘দীর্ঘদিন কাজ করে অনেক কিছু শিখেছি তার কাছ থেকে। কমলা যেমন লিখতেন, তেমন বলতেন, তেমন করেই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন।’