আজ থেকে ৭০ বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাড্ডা গ্রাম থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন আবদুল কুদ্দুস মুন্সী। খালি হয়েছিল মায়ের কোল। অবশেষে ফেসবুকের কল্যাণে গতকাল শনিবার মিলন হলো মা-ছেলের।
৭০ বছর আগে পুলিশ সদস্য চাচার সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে রাজশাহীর বাগমারায় বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে যায় ১০ বছর বয়সি আব্দুল কুদ্দুস মুন্সী। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পাওয়া গেলে পরিবারের সদস্যরা মনে করেন সম্পত্তির লোভে বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে আব্দুল কুদ্দুসকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে হত্যা করেছে তার চাচা। কিন্তু পরিবারের ধারণা ছিল ভুল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাড্ডা গ্রামের বাসিন্দা প্রতিবেশী রাজিয়া খাতুনের স্বামী একই উপজেলার দীর্ঘসাইর গ্রামের পুলিশ সদস্য আবদুল আউয়ালের সঙ্গে রাজশাহীর বাগমারার বাজারে গিয়ে হারিয়ে যান শিশু আবদুল কুদ্দুস। পথহারা কুদ্দুসকে রাস্তা থেকে সাদেক নামে একজন নিয়ে লালনপালন করেন। পরে বিয়ের উপযুক্ত হওয়ার পর বিয়ে করান। বর্তমানে আবদুল কুদ্দুস তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ের জনক। দিন দশেক আগে খান মো. আইয়ুব নামে পরিচিত একজনের ফেসবুক আইডিতে ছোটবেলায় কুদ্দুস তার হারিয়ে যাওয়ার গল্প বলেন। এ কাহিনি শোনার পর নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সিংসাড়া গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব আলী গত ১২ এপ্রিল তার ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করে লিখেন— ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার বাড্ডা গ্রামের এই বৃদ্ধ আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগে হারিয়ে গিয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। কেউ যদি তার কথা শুনে চিনতে পারেন তাহলে ভিডিওটি শেয়ার করুন।’ ফেসবুকে আপলোড করা সেই ভিডিওটি অতিসম্প্রতি কুদ্দুসের পরিবারের নজরে আসে। তারা কুদ্দুসের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। কুদ্দুস জানতে পারেন তার বৃদ্ধ মা মঙ্গলের নেছা (১১০) বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আশরাফবাদ গ্রামে কুদ্দুসের ছোট বোন ঝরনা বেগমের বাড়িতে থাকেন। গতকাল বিকালে কুদ্দুস সেই বাড়িতে যান। দীর্ঘ ৭০ বছর পর মা ফিরে পান তার হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে। ১০ বছরের সেই ছোট্ট শিশু কুদ্দুস আজ ৮০ বছরের বৃদ্ধ। বাড্ডা গ্রামের মৃত কালু মুন্সীর ছেলে কুদ্দুস দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়।
গতকাল আশরাফবাদ গ্রামে কুদ্দুস একা যাননি, সঙ্গে ছিল তার এক ছেলে, ছেলের বউ, নাতি, নাতবউ ও শ্যালক। আবদুল কুদ্দুস মুন্সী বলেন, কখনো ভাবিনি আমি আমার মাকে ফিরে পাব। ফেসবুকের মাধ্যমে মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে প্রথম যখন কথা বলি তখন মা আমাকে বলেন—‘তুই আমার হারিয়ে যাওয়া আব্দুল কুদ্দুস বাবা। তোর ছোটবেলায় হাত কেটে গিয়েছিল।’ মায়ের মুখে এ কথা শুনার পর আমি বলি, ‘মা তোর কুদ্দুসের কোন হাত কেটে গিয়েছিল?’ তখন মা বলে ‘বাম হাতের বুড়া আঙুল কেটে গিয়েছিল।’—এ কথা শুনে আমরা নিশ্চিত হই যে, এই আমার মা। আজকে ৭০ বছর পরে মাকে দেখে আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।
