আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আন্দোলনের কর্মপন্থা চূড়ান্ত করতে দলের নির্বাহী কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় বৈঠকে শেষ করেছে বিএনপি। এবার পেশাজীবিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন দলের হাইকমান্ড। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নেতৃস্থানীয়দের মতামত গ্রহন করবে দলটি। গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কবে এবং কোথায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, কাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে-তা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠিক করবেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনের চিন্তা থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি রূপরেখার খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। এই খসড়া চূড়ান্ত করতেই দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটি, পেশাজীবী ও সরকার বিরোধী সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই অংশ হিসেবে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রথম দফায় ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা তিন দিন জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, সম্পাদক ও সহসম্পাদক এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাদের মতামত নেয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাংগঠনিক জেলার সভাপতিদের মতামত নেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতাদের দেওয়া মতামত নিয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পেশাজীবীদের মতামত নেয়ার পর আবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পেশাজীবীদের মতামত পর্যালোচনা করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার বিষয়ে বিএনপির একটি ভাবনা চূড়ান্ত করা হবে। এরপর তা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতির সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হতে পারে। বিএনপির দায়িত্বশীল একজন নেতা জানান, আন্দোলন সহসা হবে না। এখনি শক্তি ক্ষয় করতে চায়না বিএনপি।নির্বাচনের বছর ২০২৩ সালের শুরুতে অথবা আগামী বছরের শেষভাগে তারা আন্দোলনে নামতে চান। তার আগে সংগঠন পুনর্গঠন ও সারাদেশে জেলায় জেলায় সমাবেশ ও গনসংযোগের মাধ্যমে ওয়ার্মআপ করে আন্দোলনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে। বিএনপি জোটগতভাবে আন্দোলন করবে, নাকি জোটের শরিকদের বিচ্ছিন্ন রেখে যুগপত্ আন্দোলন করবে তা চূড়ান্ত করতে সময় নিবে। বিএনপি জোটের শরিকদের সাথে সিরিজ বৈঠক করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে।
এদিকে জানা গেছে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারসহ একগুচ্ছ দাবি নিয়ে মাঠে নামতে চায় বিএনপি। আন্দোলনের বিকল্প নেই-এমন বার্তা এসেছে দলটির দুদফায় ছয় দিনের সিরিজ বৈঠক থেকে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের এই অভিন্ন মতামতকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে আন্দোলনের পরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন নীতিনির্ধারকরা। বিরোধী সব রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নাগরিক এবং গণতন্ত্রমনা ব্যক্তিদের এক ছাতার নিচে আনতে নানা উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এ পরিকল্পনায়।
এছাড়া সিরিজ বৈঠকগুলোতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়তে ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নেতারা। সবাই বর্তমান সরকার এবং বিদ্যমান ব্যবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিপক্ষে মত দেন। তবে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, না নিলে আন্দোলনের কৌশল কী হবে বা রাজপথের দুই মিত্র জোটের (২০ দল ও ঐক্যফ্রন্ট) সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক কেমন হবে-এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে সিরিজ বৈঠকে যৌক্তিক কারণ ছাড়া অনুপস্থিত নেতাদের শোকজ করেছে বিএনপি হাইকমান্ড। শুক্রবার থেকে তাদের শোকজের চিঠি পাঠানো শুরু করেছে।
