লোভনীয় অফারকে ‘না’ বলুন

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:২৬

তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমান বিশ্বে ই-কমার্স বা ই-বাণিজ্য একটি অতি পরিচিত নাম। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিন দিন অনলাইনে কেনাকাটা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে করোনা মহামারি ঠেকাতে সরকারঘোষিত লকডাউনে মানুষ যখন গৃহবন্দি ছিল, বাইরে বের হওয়ার সুযোগ ছিল না, তখন ই-কর্মাস-এর ওপর সবার নির্ভরশীলতা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছিল। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বা পছন্দের পণ্যটি যখন মার্কেটে গিয়ে কেনা সম্ভব হচ্ছিল না তখন অনলাইনে পণ্যদ্রব্য অর্ডারই হয় ভরসার স্থল। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) তথ্যমতে, বর্তমানে সারা দেশে নিবন্ধনকৃত ১ হাজারের বেশি অনলাইন প্ল্যাটফরম রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় পেইজের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ ই-কমার্সের সঙ্গে জড়িত আছে। এসব সাইটের মাধ্যমে প্রতিদিন ৫০ হাজারেরও অধিক পণ্য ডেলিভেরি হয়ে থাকে। সংখ্যাটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক বড়। কিন্তু বাংলাদেশে ই-কমার্স এর সূচনা থেকে এখন পর্যন্ত গ্রাহকদের অভিযোগের তালিকাটাও নেহায়েত কম নয়। বিশেষ করে চাহিদা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত পণ্য সরবরাহ না করা এবং  নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করার ঘটনা এখন প্রতিনিয়তই ঘটে চলছে। গুটিকয়েক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার জন্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ই-কমার্সের ওপর আস্থা হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

ই-কমার্সের প্রতি মানুষের নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে কিছু মুনাফালোভী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সঙ্গে করছে প্রতারণা। অনলাইনে চটকদার বিজ্ঞাপন আর লোভনীয় অফার দিয়ে অনেক সাধারণ গ্রাহককে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে সেসব প্রতিষ্ঠান। পণ্য কিনলে অর্থ ফেরতের অস্বাভাবিক ক্যাশব্যাক অফার দিয়ে ব্যবসা করছে তারা। কেউ কেউ ১০০ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক অফার দিচ্ছে। অর্থাত্ ১০০ টাকার পণ্য কিনলে সমপরিমাণ বা তারও বেশি অর্থ ফেরত দেওয়ার লোভনীয় এ অফারে হাজার হাজার গ্রাহক আকৃষ্ট হচ্ছে। লাভবানও হচ্ছে অল্প কেউ, বেশির ভাগই লাভবান হওয়ার লোভে ফাঁদে পা রাখছে। সাইক্লোন, থান্ডার স্ট্রম, আর্থকোয়াকসহ নানা ধরনের লোভনীয় অফার দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এসব লোভনীয় অফারে আকৃষ্ট হয়ে পণ্য অর্ডার করে অসংখ্য মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। সম্প্রতি ই-অরেঞ্জ ও ইভ্যালির মতো লোভনীয় অফার দাতাদের প্রতারণার খবর সবার সামনে এসেছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নানা রকম লোভনীয় অফার দেওয়া ছিল তাদের ব্যাবসায়িক পলিসি। তাদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে অসংখ্য মানুষ। ইতিপূর্বে যত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান লোভনীয় অফার দিয়েছে, তার অধিকাংশই ছিল প্রতারণার ফাঁদ।

অনলাইনে পণ্য কেনাকাটায় প্রথমেই যেটি প্রয়োজন তা হলো ‘সচেতনতা’। কোনো আকর্ষণীয় বা লোভনীয় বিজ্ঞাপন বা অফার দেখেই হুট করে অর্ডার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে ই-কমার্স ব্যবসায় প্রতারণার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। ই-কমার্স পরিচালনার সংশ্লিষ্ট নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি জনগণ সচেতন হলেই ই-কমার্সে প্রতারণা কমে আসবে।

n লেখক:শিক্ষার্থী, দারুন নাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, ডেমরা, ঢাকা।