সড়ক প্রশস্তকরণে বাধা ময়লার ভাগাড়

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৯

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

যানজট নিরসনে ছয় লেনে উন্নতী করা হচ্ছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। সোয়া আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির কাজ শুরু হলেও প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্জ্য। সড়কের পার্শ্ববর্তী ময়লার ভাগাড় নিয়ে বিপাকে পড়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। রীতিমতো এই ময়লার ভাগাড়ের কারণে থমকে যাচ্ছে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, সড়কটি প্রায় ১২৯ ফুট প্রশস্ত হবে। সড়কটি ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪৪৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এই প্রকল্পের কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত ৯ ফেব্রুয়ারি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।

 সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সূত্রে জানা যায়, লিংক রোডের নিকটবর্তী সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের গৃহস্থালি বর্জ্য সড়কে ফেলা  হয়।  নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে বর্জ্য সংগ্রহের ভ্যান আটক করলে চালকেরা তাদের ইউনিয়ন ও সিটির বর্জ্য সংগ্রহকারী বলে পরিচয় দেন। এদিকে সমস্যার সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক সভা হলেও হয়নি সমস্যার সমাধান। সড়কের দুপাশে কয়েক বছর যাবত্ একটানা বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। সাইনবোর্ড থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত সড়কের পার্শ্ববর্তী অধিকাংশ স্থানের বর্জ্য অপসারণের উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই পুনরায় ভরাট হচ্ছে।

সরজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে চলছে নির্মাণ কার্যক্রম। সড়কের দুপাশে উচ্ছেদসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ চলমান। কিন্তু সাইনবোর্ড থেকে ফতুল্লা স্টেডিয়ামের অবস্থা খুবই খারাপ। সড়কের দুপাশে বর্জ্য, চারিদিকে দুর্গন্ধ। এটি জেলায় প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন শত শত যানবাহন এই সড়কে যাতায়াত করে। সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় বেড়েছে যানজট। নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শেষ না হলে ভোগান্তি বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে যাত্রীরা। তবে বর্জ্য ফেলা বন্ধ না হলে সড়কের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হবে না বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশেই রয়েছে জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যার মধ্যে আছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, সিভিল সার্জন অফিস, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পিবিআই অফিস, জেলা কারাগার, বিজিবি-৬২, পরিবেশ অধিদপ্তর, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, এলজিইডি অফিস, জেলা পরিষদ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, পাসপোর্ট অফিস ও বিআরটিএ অফিস। আছে অগণিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। পরিত্যক্ত বর্জ্য ও যানজটে দুর্ভোগে রয়েছে স্থানীয়রা।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকায় দৈনিক উত্পাদিত আবর্জনা ২০১৭ সাল থেকে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলামিননগরের পতিত জায়গায় ফেলা হয়। এ ছাড়া ফতুল্লা স্টেডিয়ামের পেছনের খালি জায়গায় ইউনিয়নের অস্থায়ী ডাম্পিং স্পট করা হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে কিছুসংখ্যক বর্জ্য সংগ্রহকারী এখানে বর্জ্য ফেলেন। তবে এখনো সড়কের পার্শ্ববর্তী সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের বর্জ্য সড়কে ফেলা হয় বলে জানায়  নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন লিংক রোডের প্রকল্পে বিষয়ে আক্ষেপ করে বলেন, তারা  বর্জ্য অপসারণ  করলেও  আবার ভরে ওঠে। বাববার বর্জ্য না ফেলার নির্দেশনা দিয়েও তা থেকে ফেরানো যাচ্ছে না সংশ্লিষ্টদের। এ ব্যাপারে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।