নদী দখলমুক্ত করতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে ---------নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:২১

নদী দখলমুক্ত করতে সরকারকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। তিনি বলেছেন, দূষিত সমাজ ব্যবস্থার কারণে নদীগুলো দূষিত হয়েছে, দখল হয়ে গেছে। এই দুরবস্থা, এমনি এমনি আসেনি। কিছু মানুষ ফাঁকা জায়গা দেখলেই ভাবে এটা আমার দখল করতে হবে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে আমরা যখন ঢাকার চারপাশের নদী দখল উচ্ছেদ শুরু করলাম, তখন কিন্তু দেখিনি কোনটা কার জায়গা। চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তখন তিনি আমাদের সাহস দিয়েছিলেন। বাংলাদেশে এমন একজন নেতাকে পেয়েছি যার সাহস আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়, উত্সাহ যোগায়। তার সাহসেই আমরা ঢাকার চারপাশ দখলমুক্ত করেছি। সেগুলোকে রক্ষা করার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। গতকাল রবিবার প্রতিমন্ত্রী ঢাকায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের শহীদ শেখ কামাল মিলনায়তনে মুজিবশতবর্ষ ও  বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর নদী ও পরিবেশ ভাবনা এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নদীগুলোকে রক্ষা করে এর প্রবাহ নিশ্চিত করাই-নদী দিবসের অঙ্গীকার। পঁচাত্তর পরবর্তী দূষিত সমাজ ব্যবস্থার কারণে নদীগুলোও দখল ও দূষণের কবলে পড়ে। বঙ্গবন্ধু নদী নিয়ে যে পদক্ষেপগুলো করেছিলেন; তা তিনি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে নদী রক্ষার জন্য আমাদের সংগ্রাম করতে হতো না। নদীগুলো জীবন ও জীবিকার উত্স হিসেবে কাজ করত।

তিনি বলেন, পঁচাত্তরের পর একটি ধারা তৈরি হয়, মানুষ মনে করেছিল অপরাধ করলে বিচার হবে না, নদী দখল করলে বিচার হবে না। অনেকে নদীর পাড়ে গিয়ে ঘর তুলেছে, অনেকে কল-কারখানা গড়ে তুলেছে। তারা মনে করেছে এটা দখল নয়, এটা আমার প্রাপ্য অধিকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন অপরাধীদের হাতে ছিল। কাজেই এই দুরবস্থা শুধু আমাদের নদীর নয়, পুরো বাংলাদেশকে গ্রাস করেছিল।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এস এম আলী কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য কামরুন নাহার আহমেদ, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ৪৮ নদী সমীক্ষা প্রকল্পের পরিচালক ইকরামুল হক এবং বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মুনির হোসেন। অনুষ্ঠানে তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। ‘বঙ্গবন্ধুর নদী ভাবনা ও বাংলাদেশের নদীসমূহের দখল, দূষণ ও নাব্যতা সংকট :প্রেক্ষিত ৪৮ নদী সমীক্ষা প্রকল্প, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন’; ‘বঙ্গবন্ধুর নদী ও পরিবেশ ভাবনা এবং আমাদের করণীয়’ এবং ‘সুস্থ নদী ও মত্স্য সম্পদের সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধগুলো উপস্থাপন করেন যথাক্রমে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ স্পেশালিস্ট মনির হোসেন চৌধুরী, রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্স সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া।