জার্মানির পার্লামেন্ট নির্বাচনের বেশিরভাগ আসনের ফল প্রকাশ হয়েছে। প্রাথমিক ফলে ২০২ আসন পেয়ে এগিয়ে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের জোটসঙ্গী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি আর চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। দলটি পেয়েছে ১৯৭ আসন। আর ১১০ আসন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টি। এই তিন দলের ভোট প্রাপ্তির হার যথাক্রমে ২৬ শতাংশ, ২৫ শতাংশ এবং ১৩ শতাংশ। চতুর্থ স্থানে আছে এফডিপি। তারা ৯৩ আসন পেয়েছে।
এক যুগের বেশি সময় দাপটের সঙ্গে দেশ চালিয়েছেন অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল। ম্যার্কেলবিহীন নির্বাচনে তার দলটি এখন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন কি না এ নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে। ভোটের ফলেই পরিস্কার যে আগামী চার বছরের জন্য সরকার গঠন করতে এই দুই দলকেই এখন কোয়ালিশন সঙ্গী খুঁজতে হবে। জার্মানির পার্লামেন্টের মোট আসন ৭৩০।
৮ কোটি মানুষের দেশ জার্মানিতে ভোটার প্রায় ৬ কোটি ৪ লাখ। নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ১ লাখ। আর পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি লাখ। এবারের নির্বাচনে ৪৭টি দল ৬ হাজার ২১১ জন প্রার্থী দিয়েছে। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। দেশটিতে ১৯৪৯ সাল থেকে গণতান্ত্রিক প্রথায় নির্বাচন হচ্ছে। এটি ছিল দেশটির ২০তম জাতীয় নির্বাচন। জার্মানির রাজনীতিতে সরকার গঠনের ঐতিহ্য হলো জোট বেঁধে সরকার গঠন। কারণ, সরকার গঠনের মতো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট কোনো দলই পায় না।
জার্মানির নির্বাচন ও সরকার গঠন ব্যবস্থা কিছুটা ভিন্ন। সেদেশের ভোটাররা দুটি ভোট দেন। প্রথম আসনভিত্তিক ভোট দেন যা দিয়ে স্থানীয় এমপি নির্বাচিত করেন। দেশটিতে সরাসরি নির্বাচিত এমপির আসন সংখ্যা ২৯৯টি। কিন্তু দ্বিতীয় ভোটের প্রথা একটু ভিন্ন। এটি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব। বাকি ২৯৯টি আসন প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়- কারা মোট ভোটের কত অংশ পেয়েছে তার ভিত্তিতে। তবে এক্ষেত্রে কোনো দলকে পার্লামেন্টে আনুপাতিক আসন পেতে হলে কমপক্ষে ৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। ছোট ও কট্টরপন্থি দলগুলো যাতে ক্ষমতা পেতে না পারে সেজন্যই এই নিয়ম করা হয়েছে। অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের দলের চ্যান্সেলর প্রার্থী হলেন আরমিন লাশেট। আর সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চ্যান্সেলর প্রার্থী বর্তমান অর্থমন্ত্রী ওলাফ শলত্স। গ্রিন পার্টির পক্ষে এই পদে লড়ছেন আনালেনা বেয়ারবক।
