সরলতার প্রতিমা, কোনো কারণে, যদি হিমালয় হয়ে, এই বুকটা খুলে, নাতি খাতি বেলা গেল, কালো মাইয়াসহ অগণিত কালজয়ী গানের শিল্পী খালিদ। গত কয়েক বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন। গান নিয়ে নিজের ভাবনা, পরিকল্পনাসহ প্রাসঙ্গিক নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন তিনি। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন
তানভীর তারেক
কেমন আছেন?
আমি সবসময় সুখটা নিয়েই বাঁচি। দুঃখ আমাকে ছুঁতে পারে না। তাই ভালো থাকি, ভালো আছি।
তাহলে বলতে চাইছেন আপনার জীবনে দুঃখ নেই?
দুঃখ নেই, তা তো বলিনি। বলেছি ঐগুলো কচুপাতার জলের মতো আমার কাছে। আমার শরীরে জমতে পারে না।
সবারই একটা বড় প্রশ্ন, কৌতুহল! কেন দেশ ছেড়ে এলেন?
অভিমানে। কোন অভিমান এসব জানতে চেয়ো না। তবে আমি খুব স্পষ্ট কথা বলি। আমেরিকান পাসপোর্ট করাটাও জরুরি। ওটা হাতে পাবো খুব জলদি। হাতে পাওয়ার পরের মুহূূর্তেই টিকেট কেটে ভোঁ দৌড় দেব ঢাকায়।
তার মানে শরীরটা এখানে থাকলেও মনটা ঐ ঢাকাতেই...
হুমম, তা তো স্বাভাবিক। ঢাকার ধুলোও আমাকে মিস করে। আমি জানি। ওদেরও অভিমান হয় আমার প্রতি।
আপনি নব্বই দশকের ক্রেজ আর্টিস্ট। আপনার গান শুনে দুই প্রজন্মের তরুণরা আজ যুবকের দলে। এসব মিস করেন না?
করি, তবে আমার মনে হয়, আমার চাইতেও বেশি শ্রোতারা আমাকে মিস করে। গানটাই তো গেয়েছি। ভালোবাসার বিনিময় ছাড়া তো কিছু চাইনি কোনোদিন।
এখন তো কপিরাইট ইস্যু নিয়ে সবাই সোচ্চার। আপনার একটা সরলতার প্রতিমা গানটির রয়্যালিটিই তো এক শিল্পীর আজীবনের চলার জন্য যথেষ্ট!
এগুলো শুনতে ভালো লাগে। কিছু কিছু প্রমাণও পাই। কিন্তু কই? বাস্তবতায় তো আমি খালিদ পড়ে আছি বিদেশে। এই গেল করোনায় দেড়টা বছর কী এক স্ট্রাগলের ভেতর দিয়ে জীবন গেছে, তা শুধু আমিই জানি। কোথায় রয়্যালিটি। রয়্যালিটি দেখতে কেমন? আমি জানি না। তবুও আমি আশাবাদী। আমার গান আমার সন্তান একেকটা। এই সন্তানরা আমাকে খাওয়াবে, পরাবে কোনো একদিন। নিয়মে তো তাই বলে। সেটাই তো হওয়া উচিত।
আপনারা ক্যাসেট যুগের রাজা। সেই সময়ও কী এসব বৈষয়িক বিষয় নিয়ে ভাবেননি?
না, আমি কোনোদিনই বৈষয়িক ছিলাম না। গান গাইবার আনন্দে গান গেয়েছি। বারবার ঠকেছি, না জিতেছি, সেটাও অনেক পরে বুঝেছি। কাউকে কিছু বলিনি। অভিমান আমার বুকের ভেতরে এক গোটা শহরের নাম। আমার কোনো শত্রু নেই। কারণ আমি সবকিছু সয়ে যাওয়া মানুষ। আর শিল্পীদের কাজ গান করা। বৈষয়িক বিষয়গুলো নীতিমালা দিয়ে রাষ্ট্র ঠিক করবে।
নতুন গানের কাজ কবে পাবো?
খুব জলদি। কম্পোজার এবং আমার মিউজিকমেট শান্টু ১২টি ট্র্যাক রেডি রেখেছে। দেশে ফিরেই ভয়েস দেব।
গান নিয়ে সারাবিশ্বে ঘুরেছেন। বিদেশের কোন কনসার্টটি আপনার এখনো ভালোলাগা জন্ম দেয়?
এই সংখ্যা অনেক। তবে প্রথম কনসার্ট করতে যাই কাতারে। তখন নাতি খাতি, কালো মাইয়া এসব গান সুপার-ডুপার হিট হয়েছে। সেই কনসার্টটির কথা ভুলবো না।
সংসার না সন্ন্যাস, কোনটা বেশি প্রয়োজন শিল্পী জীবনে?
দুটোরই প্রয়োজন রয়েছে। তবে শিল্পী জীবনকে মানিয়ে নেওয়ার মতো পার্টনার পাওয়া মুশকিল। সবাই তো পায় না।
আপনি তো সেদিক দিয়ে সৌভাগ্যবান—
অবশ্যই, ঐ যে প্রথমে বললাম, আমি সবসময় সুখ গুণে চলি। আমার স্ত্রীও এর একটা কারণ। সংসারের সব ভার তো ওর কাছেই। আমি ঘরে থেকেই বাউল।
আর একজন স্ত্রীর বাইরে তিনি তো কথাসাহিত্যিক হিসেবেও খুব প্রশংসিত। পাঠক খালিদ লেখককে কিছু বলে?
আমি ওর মুগ্ধ পাঠক। মাঝে মাঝে মনে হয় ওর মতো ভালো লেখক বাংলা সাহিত্যে খুবই কম।
শিল্পীর ছবি তুলেছেন তানভীর তারেক
