কৃষক আন্দোলনের এক বছর পূর্তি

ভারত জুড়ে কৃষকদের ‘বন্ধ’ পালিত

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:১৪

বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে গতকাল ভারত জুড়ে ‘বন্ধ’ কর্মসূচি পালন করেছেন দেশটির কৃষকরা। সোমবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে দিল্লি-মিরুত মহাসড়কের প্রবেশপথ আটকে দিলে দিল্লি সীমান্তে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানাচ্ছে, এই ধর্মঘটে নেতৃত্ব দিচ্ছে ৪০টি খামারি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত কিষাণ মোর্চা। খবর রয়টার্স, এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

দেশ জুড়ে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, দোকান, শিল্প-কারখানা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধের ডাক দেয় সংগঠনটি। এই ‘বন্ধ’কে সমর্থন করেছে বাম, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আম আদমি পার্টি, টিডিপির মতো বিরোধী দলগুলো। গতকাল বনধ কর্মসূচির প্রভাব পড়ে দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, কেরালাসহ দেশটির সব রাজ্যেই। সোমবার সকালে ‘ভারত বন্?ধ’ স্লোগান দিতে দিতে দিল্লির দিকে অগ্রসর হন আন্দোলনকারীরা। এ সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা। ধর্মঘটে প্রভাব পড়েছে কলকাতাতেও। কৃষকদের আন্দোলন ঠেকাতে চেকপয়েন্টগুলো নজরদারির আওতায় আনে দেশটির পুলিশ। রাজধানীতে ঢোকার আগে তল্লাশি করে গড়ি ছাড়া হচ্ছিল দিল্লির সীমান্তে। এতে তীব্র যানজট দেখা দেয় দিল্লি জুড়ে। কৃষকরা দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশে যাওয়ার সড়ক বন্ধ করে দেন। দিল্লি-হরিয়ানা সড়কও বন্ধ করেছেন আন্দোলনকারীরা। নিরাপত্তার কথা ভেবে লালকেল্লার সামনে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।

কৃষকনেতা শরণ সিং বলেছেন, দিল্লির সীমানায় কৃষক নেতারা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সরকার তাদের কথা শুনছে না। তাই তারা ‘ভারত বন্ধ’ ডাকতে বাধ্য হয়েছেন।  আন্দোলনকারীরা বিজেপি সরকারের করা তিনটি আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন। কৃষকদের আশঙ্কা, এই আইনের ফলে ন্যূনতম মূল্য সহযোগিতা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে তারা বড় বড় প্রতিষ্ঠানের মুখাপেক্ষী হতে বাধ্য হবেন। সরকারের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকের পরও বিষয়টির সুরাহা হয়নি। কৃষকরা এখনো আইন বাতিলের দাবিতে অনড়।