অনুমোদনহীন ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে এই তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের দ্বৈত ভার্চুয়াল বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন।
হাইকোর্ট বলেছে, তদন্তের সময় যদি অননুমোদিত বা লাইসেন্স ছাড়া ক্ষুদ্র ঋণ কারবারী সমবায় বা কোনো অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তাহলে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে সেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় বন্ধের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে সুদ কারবারীদের তালিকা দিতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সারা দেশে চড়া সুদে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ও মহাজনদের চিহ্নিত করার নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
রিটকারী তার সম্পূরক আবেদনে দেশে চড়া সুদের ব্যবসা কীভাবে হচ্ছে সে সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন। সায়েদুল হক সুমন বলেন, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে যে, ২০০৭ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ৭৪৬টি প্রতিষ্ঠান-সংগঠনকে ক্ষুদ্রঋণের সনদ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৩৪টি প্রতিষ্ঠান-সংগঠনের সনদ বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্রঋণের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ছাড়া আর কারো সুদের ব্যবসা করার সুযোগ নেই। কিন্তু সারা দেশে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দেদার উচ্চহারে সুদের ব্যবসা করছে।
