শেখ হাসিনার জন্মদিনে যুবলীগের আশ্রয় কর্মসূচির উদ্বোধন

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:২১

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্ম না নিলে আমরা আজ একটা মানচিত্র পেতাম না, একটা পতাকা পেতাম না, জাতীয় সংগীত পেতাম না; তেমনি শেখ হাসিনা জন্ম না নিলে আমরা গণতন্ত্র পেতাম না, সামাজিক ন্যায় বিচার পেতাম না, অর্থনৈতিক মুক্তি পেতাম না, ভোট ও ভাতের অধিকার পেতাম না এবং একটা মর্যাদাশীল দেশ পেতাম না। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দলকে সুসংগঠিত করা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা এবং ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার করার সংগ্রামে নেমেছিলেন। দলকে সুসংগঠিত করার জন্য তিনি সব দুঃখ-কষ্ট বুকে নিয়ে রাত-দিন পরিশ্রম করে সমগ্র দেশ সফর করেছেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় রাজধানীর ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও আশ্রয় কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় যুবলীগ চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।

No description available.

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান আমির হোসেন আমু এমপি। অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেনসহ কবি নির্মলেন্দু গুণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য নাসরিন আহমাদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনা করেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল। 

বঙ্গবন্ধুর কন্যার জন্মদিন উপলক্ষে যুবলীগ ঘোষিত সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আজকের আলোচনা সভা ও আশ্রয় কর্মসূচির উদ্বোধন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। আশ্রয় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে যুবলীগ ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে একটি ছিল আশ্রয় কর্মসূচি। সেই কর্মসূচি সম্পর্কে বলা হয়েছিল- মুজিব বর্ষে যুবলীগ দেশের প্রতিটি জেলায় গৃহহীনে গৃহদান করবে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও আশ্রয় কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রাথমিকভাবে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নরসিংদী ও শেরপুরের ১০টি পৃথক পৃথক স্থানের গৃহহীনের মধ্যে ১০টি গৃহের চাবি হস্তান্তর করা হয়। 

গাজীপুর মহানগর শাখা যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান রাসেল সরকারের পক্ষ থেকে দুইটি ঘর প্রদান করা হয়। ঘর দুটি গ্রহণ করেন মো. ইমান আলী, প্রেম কুমার দাস। গাজীপুর মহানগর শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলামের পক্ষ থেকে ৫টি ঘর প্রদান করা হয়। ঘরগুলো গ্রহণ করেন-ফাতেমা তুজ জোহরা (দুটি), আনোয়ারা বেগম (দুটি), নুর মোহাম্মদ কটু মিয়া (১ট)। নরসিংদী জেলা শাখার সহ-সভাপতি মো. শামছুল ইসলাম মোল্লার পক্ষ থেকে একটি ঘর গ্রহণ করেন-রতন বালা, ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলামের পক্ষ থেকে একটি ঘর গ্রহণ করেন-বিউটি খাতুন, শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমানের পক্ষ থেকে একটি ঘর গ্রহণ করেন-মোসা. খুশবান। 

আশ্রয় কর্মসূচি উদ্বোধনকালে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, যুবলীগের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত আশ্রয় কর্মসূচি চলমান থাকবে এবং যুবলীগের যেসব নেতাকর্মী নিজ অর্থে গৃহহীনের মাঝে গৃহদান করছে, তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

No description available.

আলোচনা সভা ও আশ্রয় কর্মসূচির উদ্বোধন কার্যক্রম অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আমির হোসেন আমু বলেন, শেখ হাসিনা ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামী ও সাহসী ছিলেন। আমরা যখন ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করি, তখন তিনি আজিমপুর গার্লস স্কুলের ছাত্রী। তিনি সেখানকার ছাত্রীদের নিয়ে মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতেন। তিনি ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসৈনিক ছিলেন। ’৭৫ পরবর্তী সময়ে স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান দেশে যখন একটি অরাজকতা পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদেরকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব দিয়েছে, যখন কোনো আইনের শাসন ছিল না— সেই সময়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন আলোর দিশারী হয়ে।

তার বক্তব্যে আমির হোসেন আমু আরও বলেন, আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে যেমন বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না, তেমনি শেখ হাসিনার জন্ম না হলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার প্রত্যাশা মানুষ করতে পারত না। আমরা যদি শেখ হাসিনাকে না পেতাম তাহলে বাঙালিরা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকেরা বাংলার মানুষের কাছে আসামির কাঠগড়ায় থাকতাম।

No description available.

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ১৯৮১ সালে যেদিন শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেন সেদিন নির্বাসন থেকে বাংলাদেশ অস্তিত্বে ফিরল। ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি মার্কিন সাময়িকী টাইম পত্রিকায় বাংলাদেশের ওপর একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু একটি আবক্ষ ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে ডান পাশে লেখা ছিল বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ সমার্থক। ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফিরে পেয়েছিলাম। কারণ ’৭৫ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ছিনতাই হয়ে গিয়েছিল। আমরা শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করছি এ জন্যই যে, তার কাছে আমাদের অশেষ দায়, অশেষ ঋণ।

ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন যুবলীগের আশ্রয় কর্মসূচির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে যুবলীগ এর উদ্যোগে নির্মিত ৭৫টি আমার ভাবনায় রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা শীর্ষক ভিডিও চিত্রের কয়েকটি অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবন ও কর্মনির্ভর কয়েকটি ভিডিওচিত্র অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কবি নির্মলেন্দু গুণ বক্তব্যের মাঝে শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা দু'টি কবিতা আবৃত্তি করেন।

ইত্তেফাক/কেকে