সাম্প্রতিক : সাপ দংশনে ওঝা নয়

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:১০

 

বর্ষা ও শরত্ কালের  মাঝামাঝিতে প্রকৃতি বেশ  ঠান্ডা  থাকে। বৃষ্টিপাত, বন্যা, ঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বৈরী আবহাওয়ায় এ সময় গ্রামেগঞ্জের ঝোপঝাড়, ফসলি জমির আশপাশসহ বিভিন্ন স্থানে বিষধর সাপের বিচরণ বেশি থাকে। জনমানুষের কাছে যেন এক আতঙ্কের নাম সাপ। গ্রামাঞ্চলে অসাবধানতায় সাপের দংশনে প্রতি বছরই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ইদানীংকালেও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রায়ই সাপ দংশনে মৃত্যুর ঘটনা জানা যায়। কিন্তু সাপ দংশনে এত মৃত্যু কেন? সাপ দংশনে রোগীর মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে বলা যায় ‘ওঝাগিরি’! মূলত নিজেদের ভুল কিংবা অজ্ঞানতার কারণেই সাপের দংশনে প্রায়শই প্রাণ  হারাচ্ছে মানুষ। এখনো গ্রামাঞ্চলে অনেক মানুষ সাপ দংশনে ওঝা বিষ নামাতে পারে বলে বিশ্বাসী। অথচ সামান্য জ্ঞান ও প্রচেষ্টায় বেঁচে যেতে পারে একটি প্রাণ। বিষধর সাপ দংশনের একমাত্র চিকিত্সা এন্টি ভেনাম; এই চিকিত্সা শুধুমাত্র হাসপাতালে হয়ে থাকে। বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাপ দংশনে রোগীকে দ্রুত সরকারি হাসপাতাল কিংবা নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না নিয়ে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ততক্ষণে রোগী ক্রমশ মৃত্যুর  দিকে ধাবিত হতে থাকে। ওঝা কখনোই সাপের বিষ নামাতে পারে না। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও গ্রামে বাবার ওঝাগিরিতে সন্তানের প্রাণ গেছে।  গ্রামাঞ্চলে সেই বাবার ওঝা পরিচয়ে থাকলেও নিজ সন্তানকেই সাপের দংশনে শেষ রক্ষা করতে পারেননি। এত স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়, সাপে কাটার চিকিত্সা ওঝার কাছে নয়, একমাত্র হাসপাতালেই হয়। শুধু গ্রামাঞ্চলেই নয়, শহরাঞ্চলেও অনেক মানুষ সাপে কাটলে ওঝার ওপর নির্ভরশীল। মানুষ এমন কুসংস্কারে বিশ্বাসের ফলে যথাসময়ে এন্টিভেনাম না পেয়ে প্রায়ই সাপের দংশনে মারা যাচ্ছে অনেক মানুষ।

দেশের সব সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে সাপ কাটার চিকিত্সা করানো হয়। সাপের দংশনে ওঝার কাছে না গিয়ে তাই দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া উচিত। সাপের দংশনে ওঝা বিষয়ক ভ্রান্ত ধারণা থেকে মানুষকে সচেতন করতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে শুরু করে সর্বস্তরের উদ্যোগ প্রয়োজন।

আরিফুল ইসলাম তামিম