বাংলাদেশের স্বাস্থ্য শিক্ষায় বড় বিনিয়োগ করতে হবে :আঙ্কটাড

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:১৫

২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য মুক্ত করতে এক দশকে বাংলাদেশকে ৮ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ ২৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এই সময়ের মধ্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় করতে হবে মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ অর্থ বা ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার (১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা)। শিক্ষা খাতে ব্যয় করতে হবে জিডিপির ৭ শতাংশ অর্থ। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাডের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। স্বল্পোন্নত ৪৬ দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের লক্ষ্য অর্জনে সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করতে হবে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে। আঙ্কটাড প্রকাশিত ‘দ্য লিস্ট ডেভেলপমেন্ট কান্ট্রি রিপোর্ট-২০২১’ এ এমন চিত্র উঠে এসেছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশগুলোর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তায় বাড়তি ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। আঙ্কটাডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে উত্পাদনশীলতা এখন যে পর্যায়ে রয়েছে সেটি দ্বিগুণ করতে হলে আগামী ১০ বছরে আরো ২৪ হাজার ৭০ কোটি ডলার (২০ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা) খরচ করতে হবে।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি হাতেগোনা কিছু খাত ও পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক শিল্প নির্ভর। দুই-একটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল না থেকে পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে উত্পাদনশীলতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। বাংলাদেশ গড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চাইলে এসডিজির ৮ নম্বর অভীষ্ট শোভন কাজ ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি খাতে মোট জিডিপির ৩১ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ, ভুটান, সাও টামে প্রিনসিপে, অ্যাঙ্গোলা, সলোমান দ্বীপপুঞ্জ, কিরিবাতি ও টুভালু এই সাতটি দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যেতে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট (সিডিপি) সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ চলতি বছর সুপারিশপ্রাপ্ত হয়। সবকিছু ঠিক থকালে ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে বের হওয়ার কথা বাংলাদেশের। এ ছাড়া ভুটান এই তালিকা থেকে বের হবে ২০২৩ সালে। সাও টোমে ও সলোমান দ্বীপপুঞ্জ, অ্যাঙ্গোলা, কিরিবাতি ও টুভালুও ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে বের হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্য হ্রাস, রপ্তানিতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে। গ্রামীণ অঞ্চলে ব্যাপক হারে দারিদ্র্য কমেছে। বৈষম্য বাড়ছে তবে সেটি আন্তর্জাতিক যে বৈষম্য রয়েছে তার থেকে নিচে রয়েছে। বেশ কিছু সুপারিশ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বাড়াতে হলে কর ব্যবস্থাপনায় উন্নতি করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অবকাঠামোর উন্নতি করতে হবে। বর্তমান চাকরির বাজারের উপযোগী দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।