ই-কমার্স আইন ও কর্তৃপক্ষ করতে ১৬ সদস্যের কমিটি

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩০

কারিগরি কমিটি গঠনের এক দিন পর ডিজিটাল কমার্সের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ১৬ সদস্যের একটি আইনি কমিটি গঠন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই কমিটিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। এই কমিটি ডিজিটাল কমার্স খাতের উদ্বুদ্ধ সমস্যা সমাধানে কী করণীয়, সে সম্পর্কে ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশ দেবে, দুই মাসের মধ্যে ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার উপযোগী একটি খসড়া আইন প্রণয়ন করবে এবং দুই মাসের মধ্যে ডিজিটাল কমার্স কর্তৃপক্ষের কাঠামো ও কার্যপ্রণালি তৈরি করবে। গত ২২ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সভার সিদ্ধান্ত এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য) এ এইচ এম সফিকুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে রাখা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (ডিজিটাল কমার্স সেল) মুহাম্মদ সাঈদ আলীকে। দেশের বেশ কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকদের শত শত কোটি টাকা লোপাট ও আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর খাতটি পরিচালনায় দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ পেতে সোমবার কারিগরি কমিটি গঠন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, অস্বাভাবিক ডিসকাউন্টে পণ্য বিক্রি করা ইভ্যালির বিরুদ্ধে একই সঙ্গে গ্রাহক ও পণ্য সরবরাহকারীদের বিপুল পরিমাণ টাকা বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা মো. রাসেল ও তার স্ত্রী বর্তমানে কারগারে রয়েছেন। গ্রাহক ও মার্চেন্টদের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ, প্রতিষ্ঠানটির যা সম্পদ রয়েছে তার কয়েকগুণ দেনা রয়েছে। আরেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই টাকার একটি বড় অংশ পাচার হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন আরো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই ধাঁচে প্রতারণার অভিযোগ আসার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এই খাতে শৃঙ্খলা আনতে মনোযোগী হয়। এর অংশ হিসেবে ই-কমার্স খাত নিয়ে নীতিমালা যুগোপযোগী করা ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ও স্বতন্ত্র আইন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে দেশের ই-কমার্স খাত থেকে অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) কী পদক্ষেপ নিয়েছে বা আদৌ কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।  সে সঙ্গে ই-কর্মাস খাত থেকে কর আদায়ের ক্ষেত্রে নীতি কী, আদৌ কোনো নীতি আছে কিনা বা এ বিষয়ে ভাবনা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। ই-কমার্স খাতের স্বার্থে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে ১৬ সদস্যের কারিগরি কমিটি করেছে, তারও কার্যপরিধি জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের এক ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ই-কমার্সের বর্তমান কার্যক্রম পর্যালোচনায় সোমবারই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমানকে আহ্বায়ক করে ১৬ সদস্যের কারিগরি কমিটি গঠিত হয়েছে। এই কমিটিতে রয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশ, সাইবার ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স শাখা, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ইক্যাব) মনোনীত প্রতিনিধিরা। এর একদিন পরেই গতকাল মঙ্গলবার আইনি কমিটি গঠন করল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।