ছাত্রদের চুল কেটে দেওয়ায় ক্লাস বর্জন, প্রশাসনিক ভবনে তালা, এক জনের আত্মহত্যার চেষ্টা

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩০

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ছাত্রের মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দেওয়ার প্রতিবাদে সব পরীক্ষা ও ক্লাস বর্জন এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত হন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য আব্দুল লতিফ,  রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী ও সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান রওশন আলম। তারা শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে বৈঠকের প্রস্তাব দিলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আলোচনায় বসতে রাজি হন। এরপরই প্রশাসনিক ভবনে শুরু হয় বৈঠক।  

শিক্ষার্থীরা জানান, কয়েক দিন আগে ক্লাস চলাকালে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন চুল বড় রাখার বিষয়ে ছাত্রদের বকাঝকা করেন। তার ভয়ে সবাই পরদিনই চুল ছোট করেন। গত রবিবার দুপুরে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের  রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিতি বিষয়ের ফাইনাল পরীক্ষার জন্য হলে ঢোকার সময় আগে থেকেই দরজার সামনে ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন কাঁচি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যাদের চুল মুঠোর মধ্যে ধরা গেছে, তাদের মাথার সামনের বেশ খানিকটা চুল তিনি কাঁচি দিয়ে কেটে দেন।

এ ঘটনায় অপমানিত হয়ে দ্বারিয়াপুরের শাহ মখদুম ছাত্রাবাসে সোমবার রাত ৮টার দিকে নাজমুল হাসান তুহিন (২৫) নামে এক ছাত্র অতিমাত্রায় ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বিষয়টি তার সহপাঠীরা টের পেয়ে দ্রুত তাকে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিত্সক তাকে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী বলেন, ‘আমরা নাজমুলের সুচিকিত্সার ব্যবস্থা করেছি। তার উন্নত চিকিত্সা চলছে। আশা করি, সে ভালো হয়ে আমাদের মধ্যে ফিরে আসবে।’

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাত ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ঐ শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলীসহ অন্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। মঙ্গলবার সকালে ফের বিক্ষোভ শুরু হয়।

ঐ বিভাগের কয়েক জন ছাত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে ঐ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের সঙ্গে কয়েক জন শিক্ষার্থীর বাগ্?বিতণ্ডা হয়। এ সময় ঐ শিক্ষার্থীদের চুল কেটে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষার হলে যেতে বলেন ঐ শিক্ষক। পর দিন পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় ১৪ জন ছাত্র চুল কেটে না আসায় তাদের মাথার সামনের অংশের চুল কেটে দেন তিনি।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন  বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা যে ঘটেনি তা নয়। তবে কয়েক দিন আগে কিছু ছাত্র আমার কাছে এসে পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে বলেছিল। আমি এতে রাজি হইনি। হয়তোবা সেই রাগে এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা একটা গুজব। অন্য বিভাগের ছাত্ররা এসব মিথ্যা গুজব ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে। আমার বিভাগের কোনো ছাত্র এসব ছড়ায়নি। আমি কখনো কাউকে বকাঝকা করি না। আর নাজমুলের ঘটনাটি অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।’ এ বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য আব্দুল লতিফ জানান, আমরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উল্লেখিত ঘটনার সুন্দর সমাধানে আশাবাদী। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, পরে বিস্তারিত জানানো হবে।