অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ‘বিআরপি’ নিয়ে আসছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৫২

প্রস্তুতি থাকলেও এ মাসে নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দিতে পারছেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। ‘জনতার অধিকার আমাদের অধিকার’— এই  স্লোগানে ‘বাংলাদেশ অধিকার পার্টি’ সংক্ষেপে ‘বিআরপি’ নামে আজ ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন দলের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। তবে দলের ঘোষণা উপলক্ষ্যে প্রত্যাশিত সভাস্থল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতির বিষয়টি অনিশ্চিত হওয়ায় ঘোষণার তারিখ বদল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নুরুল হক নুর ইত্তেফাককে বলেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বর দলের ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি ছিল। আমরা আশা করেছিলাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি পাব। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এরই মধ্যে আমাদের জানানো হয়েছে—আপাতত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ ধরনের সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। সেক্ষেত্রে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে অন্য কোথাও ইনডোর সভা করে আমরা নতুন দলের ঘোষণা দেব।’

জানা গেছে, নুরুল হকের নতুন দলের প্রধান হতে পারেন সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া। আহ্বায়ক কমিটি হলে রেজা কিবরিয়া আহ্বায়ক এবং নুরুল হক সদস্যসচিব হতে পারেন। আর পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলে রেজা কিবরিয়া সভাপতি ও নুরুল হক হবেন সাধারণ সম্পাদক। তবে যিনিই দলের প্রধান হোন না কেন, নতুন দলটির মূল ফোকাসে থাকবেন নুরুল হক।

রেজা কিবরিয়া ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি নতুন দলটির সঙ্গে থাকব, এটা কনফার্ম। কিন্তু দলে আমার পদ-পদবি কী হবে সেটি উদ্যোক্তারা ঠিক করবেন। যেখানে থাকলে আমি ভূমিকা রাখতে পারব, সেখানেই রাখা হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নুরুল হকের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্ম সরকারের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। তারা নির্বাচনমুখী। জনগণের সঙ্গেও তাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমি মনে করি, খুব সাহস ছাড়া এ সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কঠিন। সেই সাহস এই নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেখছি। অত্যাচারিত হয়েও তারা বারবার ঘুরে দাঁড়ায়। পরিবর্তনের জন্য এই দৃঢ়তা খুব দরকার। আমার বিশ্বাস, নতুন প্রজন্মই জনগণের প্রত্যাশিত সেই পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।’

প্রসঙ্গত, অক্সফোর্ডে ডক্টরেট করা রেজা কিবরিয়া ২০১৮ সালে আইএমএফের গুরুত্বপূর্ণ চাকরি ছেড়ে ওয়াশিংটন  থেকে দেশে ফেরেন। তার মূল পরিচয় অর্থনীতিবিদ হলেও নির্বাচনের আগের ঐ সময়টাতে তিনি গণফোরামে  যোগদান করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে আলোচনায় আসেন। পরে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক  হিসেবে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি গণফোরাম থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর কয়েক মাস ধরে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অংশগ্রহণে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি এবি পার্টি ও নুরুল হকদের ছাত্র অধিকার পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে সক্রিয় দেখা যায়।

রেজা কিবরিয়া দলের প্রধান হচ্ছেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল হক নুর ইত্তেফাককে বলেন, দলের প্রধান কে হবেন—সেটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রেজা কিবরিয়া হতে পারেন, আবার অন্য কেউও হতে পারেন। বিষয়টিকে চমক হিসেবে রাখতে চাইছি। ‘ভাসানী অনুসারী পরিষদ’ ও ‘রাষ্ট্রচিন্তা’—এই দুটি সংগঠনের নেতারাও আমাদের সঙ্গে থাকবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই-তিন জন শিক্ষকও থাকবেন। এছাড়াও সিনিয়র অনেকের সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছে।

জানা গেছে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে নতুন দলের সভাপতি করার পক্ষে ছিলেন নুরসহ এর উদ্যোক্তারা। তবে জাফরুল্লাহ চৌধুরী এতে সায় দেননি। নুর জানান, জাফরুল্লাহ চৌধুরী তাদের নতুন দলের উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন।

জানা গেছে, আপাতত ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি হচ্ছে বিআরপির। তবে গুরুত্বপূর্ণ নেতার সংখ্যা বেশি হলে একটা উপদেষ্টা কমিটিও গঠন করা হতে পারে। নতুন দলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে থাকছেন—বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, অধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। সামাজিক সংগঠন ‘রাষ্ট্রচিন্তা’র হাবিবুর রহমান ও হাসিবুর রহমানও থাকছেন নতুন দলে।

নতুন দলের পাশাপাশি পৃথক একটি মোর্চা গড়ারও পরিকল্পনা নিয়েছেন নুরুল হক নুরসহ তার সহযোগীরা। জোনায়েদ সাকির গণসংহতি আন্দোলন ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য ছাড়াও আরো কয়েকটি সংগঠনকে নিয়ে এই মোর্চা গড়ে তোলা হতে পারে। প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি মাসে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে গণসংহতি আন্দোলন, রাষ্ট্রচিন্তা, ছাত্র-যুব-শ্রমিক অধিকার পরিষদ এবং ভাসানী অনুসারী পরিষদ—এই চারটি সংগঠন মিলে নতুন একটি জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল।