নিজ গ্রামেই বন্দিজীবন ধর্ষণের শিকার তরুণীর পরিবারের

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:০৯

ঠিক এক বছর আগে ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতের উত্তর প্রদেশের হাথ্রাস জেলার ভুলগড়ি গ্রামে গণধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন ১৯ বছর বয়সী এক দলিত তরুণী। তার ওপর নির্মম নির্যাতন চলানোর অভিযোগ ওঠে উচ্চ গোত্রের প্রতিবেশিদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে যখন তার পরিবারের অনুমতি ছাড়া রাতের অন্ধকারে জোর করে মৃতদেহ দাহ করা হয়। খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার পর স্থানীয় সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও ন্যায়বিচার পায়নি ভিকটিমের পরিবার। কেবল অভিযুক্ত চার যুবককে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। যা ভারতের ধীরগতির বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিচ্ছবি।

No description available.

অন্যদিকে, গত এক বছর ধরে নিজ বাড়িতেই কারাবন্দির মতো বসবাস করছে ভিকটিমের পরিবার। তারা বাড়ির বাইরে যেতে পারে না। অভিযুক্তরা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বারবার হুমকি দিচ্ছে। ফলে ভিকটিমের পরিবারের নিরাপত্তায় বাড়ির চারপাশে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে প্যারামিলিটারি জওয়ানরা। জরুরি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যেতে হলে নিরাপত্তার জন্য জওয়ানদের সঙ্গে নিতে হয়। চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরাও লাগানো হয়েছে। পরিবারটির সব খরচ চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। কিন্তু, নিজ বাড়িতে বন্দির মতো থাকা আর কতদিন? ভিকটিম হয়েও আসামির মতো জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

নিহত তরুণীর মা বিবিসিকে বলেন, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর বাজারের ফসলের মাঠে ক্ষত-বিক্ষত এবং অর্ধনগ্ন অবস্থায় নিজ মেয়েকে খুঁজে পান। তার মেরুদণ্ড ভেঙে যায়, শরীর থেকে রক্তপাত হচ্ছিল এবং সে রক্ত ​​বমি করছিল। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে বেশ কয়েকদিন জীবনের সঙ্গে লড়ে যান। ২৯ সেপ্টেম্বর হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তার।

ভিকটিমের বড় ভাই বলেন, জীবন থেকে একটি বছর নষ্ট হয়ে গেছে। প্যারামিলিটারিদের কারণে আমরা বাড়িতে নিরাপদ। কিন্তু আমরা কাজের জন্য বাইরে যেতে পারি না। ক্ষতিপূরণের টাকা এবং সরকারি রেশনে বেঁচে আছি। ছোট ভাই বলেন, মনে হচ্ছে আমরা বন্দি। এমনকি কিছু কিনতে কিংবা ডাক্তারের কাছে যেতে হলেও আমাদের প্যারামিলিটারিদের সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়।

No description available.

ওই ঘটনা ঘটার পূর্বে পরিবারটি তাদের ছোট খামারের ব্যবসায় জীবন অতিবাহিত করতো। অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ থেকেও তাদের আয় আসতো। কিন্তু সেগুলো এখন সব বন্ধ। তাদের সাতটি মহিষ ছিল। এর মধ্যে ছয়টি ইতিমধ্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। কারণ, পশুখাদ্য সংগ্রহের জন্য বাইরে যেতে পারে না তারা। অপরদিকে, ভিকটিমের পরিবারের জন্য নতুন বাড়ি ও সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ করেনি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, ভিকটিমের আত্মীয়রা অভিযোগ করে বলেন, নিহত তরুণীর সঙ্গে একজন ঠাকুরের (গণধর্ষণে জড়িত অভিযুক্ত এক সদস্য এবং ঠাকুর গোত্রীয়) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আর সেই সম্পর্ক মেনে না নিয়ে নিজ পরিবারের সদস্যরাই ওই মেয়েটিকে হত্যা করেছে।  প্রভাবশালী ঠাকুররাও অভিযুক্তদের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।

ইত্তেফাক/টিএ