এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২১, ২০:২৩

 

ফাইব্রিনোজেন আসলে এক প্রকার প্লাজমা-প্রোটিন

অলোক কুমার মিস্ত্রী

বিভাগীয় প্রধান, জীববিজ্ঞান

সরকারি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ পিরোজপুর

 

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আমার ভালোবাসা নিও। কোভিড-১৯ সময়ে স্কুল-কলেজ সংক্ষিপ্ত আকারে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে। অধিকন্তু বাসায় বসে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পড়াশুনোয় একান্ত মনোনিবেশ করছো। আজ আমি তোমাদের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে জীববিজ্ঞান ২য় পত্রের অধ্যায় ৪র্থ মানব শারীরতত্ত্ব: রক্ত ও সঞ্চালন-টপিকের ওপর সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করবো, যা  ২০২১ ও ২০২২ সালের এইচএসসি সকল বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষের বুকের দুই ফুসফুসের মাঝখানে মোচাকৃতির একটি অঙ্গ আছে, যা রক্ত সংবহনের কাজ করে। উক্ত অঙ্গটি কোনো প্রকার স্নায়ুবিক উদ্দীপনা ছাড়াই নিজে নিজে চলতে সক্ষম। এটি ফেইলিউরের নানাবিধ জটিল কারণও রয়েছে।

(ক) ফাইব্রিনোজেন কী?                                                    (খ) MI বলতে কী বোঝ?                                             (গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটির ফেইলিউরের কারণ ব্যাখ্যা করো।

(ঘ) উদ্দীপকে উল্লেখিত বিশেষ গড়নের অঙ্গটি সম্পর্কিত শেষ উক্তিটি পর্যালোচনা করো।                                                                    

প্রশ্নোত্তর:

(ক) ফাইব্রিনোজেন কী?

উত্তর:ফাইব্রিনোজেন আসলে এক প্রকার প্লাজমা-প্রোটিন।

(খ) উত্তর:হূদপেশিতে অপর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহের কারণে হূদটিস্যুর কোষসমূহ যদি ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা নষ্ট হয়ে যায়, তখন এ ধরনের ঘটনাকে মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন বা সংক্ষেপে MI বলে। করোনারি ধমনি ব্লক বা সংকুচিত হলে, হূদপিণ্ডের হূদপেশিতে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহের অভাবে সংশ্লিষ্ট স্থানের কোষসমূহে পর্যাপ্ত পুষ্টি ও অক্সিজেনের ঘাটতি ঘটিয়ে সাধারণত হার্ট অ্যাটাক ঘটায়।

(গ) উত্তর: ১. করোনারি ধমনির অন্তঃগাত্রে কোলেস্টেরল বা চর্বি জমে ধমনির গহ্বর বা লুমেন সংকুচিত হয়ে গেলে।

২. হূদপ্রাচীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সমৃদ্ধ পুষ্টিযুক্ত রক্তের সরবরাহ বন্ধ হলে।

৩. উচ্চ রক্তচাপ কিংবা হাই ব্লাডপ্রেসার দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে।

৪. অত্যধিক কোলেস্টেরল বা চর্বির কারণে করোনারি পথে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হলে।

৫. বহুমূত্রব্যাধি বা ডায়াবেটিকের কারণে দেহে পর্যাপ্ত ইনসুলিন উত্পাদন ও তার সঠিক ব্যবহার না হলে।

৬. হূদপিণ্ডে জন্মগত কিংবা সংক্রমণজনিত ত্রুটি থাকলে।

(ঘ) উত্তর:উদ্দীপকে উল্লেখিত বিশেষ গড়নের অঙ্গটি হলো মানব হূদপিণ্ড। এটি বাহিরের কোন উদ্দীপনা ছাড়াই রূপান্তরিত হূদপেশির সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজে নিজে চলতে সক্ষম। আর এ ধরনের নিয়ন্ত্রণকে ময়োজেনিক নিয়ন্ত্রণ বলে। প্রকৃতপক্ষে, হূদপিণ্ডের প্রাচীরের বেশ কিছু রূপান্তরিত পেশি এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করে। এদেরকে সংযোগী টিস্যুও বলা হয়। আর এই টিস্যুগুলো হলো SAN, AVN ও পারকিনজি তন্তু। SAN ডান অলিন্দের প্রাচীরে, ডান অলিন্দ ও সুপিরিয়র ভেনাক্যাভার ছিদ্রের সংযোগস্থলে অবস্থান করে এবং এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মস্তিষ্কের ভ্যাগাস স্নায়ুতন্ত্র থেকে উদ্দীপনা নিয়ে হূদপিণ্ডে ছড়িয়ে দেয়। আর  এই SAN থেকে সৃষ্ট উদ্দীপনাকে অ্যাকশন পটেনসিয়াল ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যাল বলে। যা হূদপিণ্ডে হার্টবিট শুরু করতে সক্ষম। এটি অলিন্দের প্রাচীরে ছড়িয়ে এর সংকোচন ঘটায়। ডান অলিন্দ, নিলয়ের প্রাচীরে অবস্থিত SAN এর অনুরূপ গঠন বিশিষ্ট AVN টিস্যু, AV বান্ডল নামক বিশেষ পেশি টিস্যু গুচ্ছের সাথে সংযুক্ত থাকে। AV বান্ডলের মাধ্যমে হূদ উদ্দীপনার ঢেউ অলিন্দ  থেকে নিলয়ে ছড়িয়ে পড়ে। AV বান্ডল, বান্ডল অব হিজ নামক পরিবর্তিত হূদপেশি তন্তু গুচ্ছের সাথে যুক্ত থাকে। আবার বান্ডল অব হিজ থেকে সূক্ষ্ম পারকিনজি তন্তুর সৃষ্টি হয়ে সরাসরি প্যাপিলারি পেশিতে এবং পরে নিলয়ের পার্শ্ব প্রাচীরে ছড়িয়ে পরে। আর এই হূদ উদ্দীপনা বান্ডল অব হিজ বারবার অতি দ্রুততার সহিত সুনিপুণ দক্ষতায় পরিবর্তিত করে, নিলয় প্রাচীরে সর্বত্র বিস্তার ঘটায়। ফলে ডান ও বাম নিলয় একই সাথে সংকুচিত হয়ে থাকে।

অতএব বলা যেতেই পারে, উদ্দীপকে উল্লেখিত বিশেষ গড়নের অঙ্গটি অর্থাত্ মানব হূদপিণ্ড, রূপান্তরিত হূদপেশির সাহায্যে সকল স্নায়ুবিক উদ্দীপনা ছাড়াই  নিজে নিজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার অর্পিত কার্য সম্পাদনে সক্ষম।