অণুভাবনা : জয় বাংলা

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২১, ২০:২৫

শাহ্জাহান কিবরিয়া

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় স্লোগান নির্দিষ্ট থাকে। (এ পর্যন্ত বিশ্বে ১৬৩ দেশের জাতীয় স্লোগান আছে।) যেমন ভারতের জাতীয় স্লোগান ‘জয় হিন্দ’। তাদের প্রতিটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, বেতার, টিভিতে অনুষ্ঠান শেষে ‘জয় হিন্দ’ উচ্চারিত হয়। তেমনি পাকিস্তানে উচ্চারিত হয় ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর কয়েক বছর বঙ্গবন্ধুর জীবিত থাকাকালীন সময়ে সকল অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ বলা হতো। ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। পাকিস্তানি মতাদর্শের অনুসারী সরকারগুলো পাকিস্তানি কায়দায় বলতে থাকে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’। বিদায় নেয় ‘জয় বাংলা’। পরবর্তীকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বিচারপতি মুহম্মদ হাবিবুর রহমান ‘জয় বাংলার’ সমর্থক এবং ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদে’র সমর্থকদের মধ্যে আপসরফা হিসাবে মধ্যবর্তী পন্থা অবলম্বন করে চালু করেন ‘বাংলাদেশ চিরজীবী হোক’। ব্যক্তিস্বার্থে আপস করা যায়, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে কখনো নয়। বঙ্গবন্ধু কখনো আপসে বিশ্বাসী ছিলেন না।

‘জয় বাংলা’ আমাদের সংগ্রামী চেতনার ফসল। ‘জয় বাংলা’ জাতিসত্তা বিকাশের স্লোগান। আমাদের সংগ্রামী ঐতিহ্য রক্ষার জন্য ‘জয় বাংলা’। ‘জয় বাংলা’র জন্য এদেশের মানুষের অনেক রক্ত ঝরেছে। ত্রিশ লক্ষ লোক প্রাণ দিয়েছে। তিন লক্ষ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছে। শত্রুর বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও বীর মুক্তিযোদ্ধারা ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণ করতে দ্বিধাবোধ করেনি। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি আমাদের শ্রেষ্ঠ জাতীয় সম্পদ। অন্য কোনো স্লোগান ‘জয় বাংলার’ বিকল্প হতে পারে না। তা করলে শহিদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। যারা বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না, তারা ‘জয় বাংলা’ বলে না।