বাগাতিপাড়ায় ৯ রেলক্রসিং অরক্ষিত

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৬

বাগাতিপাড়া উপজেলার মালঞ্চি-নাটোর ও আব্দুলপুর-রাজশাহী রুটের রেলপথে ১০টি ক্রসিংয়ের মধ্যে ৯টিতেই কোনো গেটম্যান নেই। উপজেলার ইয়াছিনপুর, স্বরূপপুর, ঠেঙ্গামারা, বড়পুকুরিয়া, মাড়িয়া নিংটিপাড়া, মাড়িয়া, হাড়ডাঙ্গী, মালিগাছা ও গাঁওপাড়া রেলগেট সবগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। ওইসব রেলগেটে একদিকে যেমন গেটম্যান নেই, তেমনি রাখা হয়নি কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। ফলে ওইসব উন্মুক্ত রেলগেট দিয়ে যানবাহন এবং লোক চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, ঘটছে প্রাণহানী।

জানা গেছে, উপজেলার সীমানার মধ্যে মালঞ্চি, ইয়াসিনপুর ও লোকমানপুর নামের তিনটি রেল স্টেশন রয়েছে। উপজেলার মাঝ বরাবর আব্দুলপুর হতে পার্বতীপুর অভিমুখে মালঞ্চিও ইয়াসিনপুর রেল স্টেশন এবং আব্দুলপুর হতে রাজশাহী অভিমুখে রয়েছে লোকমানপুর রেল স্টেশন।

মালঞ্চি স্টেশনের দুই পাশে রয়েছে পাঁচটি রেল ক্রসিং। এর মধ্যে মালঞ্চি রেলগেট ছাড়া কোনোটিতেই গেটম্যান নেই। আর লোকমানপুর স্টেশনের দুই পাশের পাঁচটি রেল ক্রসিংয়ের সবগুলোই অরক্ষিত। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা চলাচল করে। মোট দশটির মধ্যে মালঞ্চি রেলগেটে রয়েছে অনুমোদিত গেটম্যান। আর বাকি সব রেলগেট উন্মুক্ত।

হাড়ডাঙ্গী রেলগেট সংলগ্ন চা দোকানদার জমসেদ জানান, বছরখানেক পূর্বে তার চোখের সামনে পারাপারের সময় এক ট্রলি চলন্ত ট্রেনের ধাক্কা খায়। তাতে থাকা চালকসহ অন্যরা ছিটকে পড়েন। এতে মৃত কুরবান আলী সরকারে ছেলে আব্দুল খালেক সরকার নামের একজন মারা যান। তা ছাড়াও ওই গেটে প্রায় প্রতিবছরই যানবাহনসহ পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হন।

এ ছাড়াও এসব রেলগেট পারাপারের সময় নসিমন, খাবারের গাড়ি, সাংবাদিকদের মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন যান রেলের ধাক্কা খেয়েও বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়ার তথ্য মিলেছে।

স্থানীয়রা আরো জানান, গুরুত্বপূর্ণ এসব রেলগেটে নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তাদের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হতে হচ্ছে।

অটো চালক আজিজুর রহমান জানান, রাতে ট্রেনের আলো দেখে ওইসব রেলগেটের ওপর দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হয়। কিন্তু দিনে ট্রেন আসছে কিনা তা বোঝা যায় না। ফলে রেলগেটে গাড়ি থামিয়ে দুই পাশ দেখে পারাপার হতে হয়। এ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের প্রতি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

নাটোর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার খান মনিরুজ্জামান বলেন, রেলপথ এলাকায় এলজিইডির যেসব কাঁচা রাস্তা পাকা হয়েছে সেখানেই অবৈধভাবে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ কারণে রেলক্রসিং ও দুর্ঘটনা দুটোই বেড়েছে। তবে এ ধরনের বেশ কিছু লেভেল ক্রসিংয়ে নতুন লোকবল নিয়োগ করা হয়েছে। গেট নির্মাণের জন্য বরাদ্দ এসেছে। তবুও রেলের রের্কডের বাইরে ক্রসিং থাকলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

রেলওয়ে জেনারেল ম্যানেজার (পশ্চিম) খন্দকার শহিদুল ইসলাম বলেন, জনবল সংকটের কারণে এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান হবে বলে মনে করেন তিনি।