বিবিসি
উত্তর কোরিয়া এবার পরীক্ষামূলকভাবে একটি নতুন ও অত্যাধুনিক বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। বৃহস্পতিবার তারা এ ক্ষেপণাস্ত্রটি ছুড়েছে। এ নিয়ে এক মাসেই তারা চারটি ভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল।
নতুন একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর দাবির কয়েক দিন পর পিয়ংইয়ং এ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল। সেপ্টেম্বরেই তারা নতুন ধরনের একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ট্রেন থেকে উেক্ষপণযোগ্য নতুন একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল। তাদের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম বলেই ধারণা করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার এসব ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ‘অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাহীনতার বড় ধরনের শঙ্কা সৃষ্টি করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। পিয়ংইয়ং বলছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আত্মরক্ষামূলক। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিচারিতারও অভিযোগ করছে তারা।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পিয়ংইয়ংয়ের যে অস্ত্র কর্মসূচির গতি কমিয়ে আনার কোনো ধরনের আগ্রহ নেই, নতুন এসব পরীক্ষা তাই দেখাচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ বলেছে, তাদের নতুন বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রটি যুদ্ধে ‘দুর্দান্ত কর্মক্ষমতা’ দেখিয়েছে; এই ক্ষেপণাস্ত্রে ‘নতুন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি’ সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ফের হটলাইন স্থাপনে উত্তরের শীর্ষ নেতা কিম জং উনের আগ্রহ প্রকাশের এক দিন পরই এ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হলো।
কিম যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘কূটনীতির কথা বলে তলে তলে বৈরী কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, কিম এবার যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দেওয়াল তুলে দিতে চাইছেন। এজন্যই দক্ষিণের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপনে আগ্রহ দেখিয়েছেন, আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ছিন্নের। এখন থেকে সিউলের মাধ্যমে তারা নিষেধাজ্ঞা উঠাতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ প্রয়োগের পন্থাও অবলম্বন করতে পারে, ধারণা অনেকের। চলতি বছরের মার্চে দেশটি নিষেধাজ্ঞাকে অগ্রাহ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল; যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া তাত্ক্ষণিকভাবে এ পরীক্ষার নিন্দা জানায়। উত্তর কোরিয়া সম্ভবত পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য প্লুটোনিয়াম উত্পাদনে সক্ষম একটি চুল্লি পুনরায় চালু করেছে বলে গত মাসে জানিয়েছে জাতিসংঘের আণবিক শক্তি কমিশন। একে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলেও অভিহিত করেছে তারা।
