বাংলাদেশ ১ শ্রীলংকা ০
স্পোর্টস রিপোর্টার
২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় সুগাথাদাসা স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে (১-০) বাংলাদেশ বিদায় নিয়েছিল। সেদিন ২ পয়েন্ট হাতে নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশ খেলার ৭১ মিনিটে একমাত্র গোলটি হজম করে ম্যাচে ফিরতে পারেনি। ঢাকায় আবার হারিয়েছিল লঙ্কানদের। এরপর আর সাফের মঞ্চে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের দেখা হয়নি। গতকাল আবার সেই লঙ্কানদের বিপক্ষে মালদ্বীপের মাঠে সাফের লড়াইয়ে বাংলাদেশ ১-০ গোলে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সূচনা করেছে। পেনাল্টি হতে গোল করেন ডিফেন্ডার তপু বর্মন।
মালদ্বীপের মাঠে প্রথম ম্যাচ। বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার জন্য নিরপেক্ষ ভেনু। দুই দলই খেলল হিসেবি ফুটবল। বল যেন নিজেদের জালে না ঢোকে। তার পরও লঙ্কান ফুটবলারদের দেখা গেল—সুযোগ পেলেই পেশিশক্তির ব্যবহারটা করছেন। সিরিয়ার রেফারি ফেরাস টাউয়েলের চোখ এড়িয়ে যায়নি। প্রথমার্ধে সুমন রেজাকে মারার কারণে হলুদ কার্ড পেতে হয়েছিল ডিফেন্ডার ডকসন পুসলাসকে। ৩৯ মিনিটে রাকিব হোসেন অসাধারণ একটি বল তৈরি করে দিয়েছিলেন জুয়েল রানাকে। শ্রীলঙ্কার দুই ফুটবলারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বল ঠেলে দিয়েছিলেন জুয়েলকে; কিন্তু জুয়েল পুরো চেষ্টাটাই মাটি করে দিয়েছেন বল নষ্ট করে। দুই বার কর্নার পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। বিরতির পর যোগ হওয়া টাইমে বাংলাদেশের প্রথমার্ধের সবচেয়ে সহজ সুযোগটা ব্যর্থ হয়। ইয়াসিনের ক্রসের বল ডিফেন্ডার তপু বর্মন হেড করেছিলেন লঙ্কানদের জালে। গোলকিপার অধিনায়ক সুজন পেরেরা সময়মতো লাফিয়ে উঠে কর্নার না করলে বল জালেই ঢুকে যেত। এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নষ্ট হয় বাংলার ফুটবলারদের।
দ্বিতীয়ার্ধে নেমে গোল পায় বাংলাদেশ। ৫৬ মিনিটে পেনাল্টি হতে তপুর গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বিপলু ক্রস করে বল দেন ইব্রাহিমকে। ইব্রাহিম বল ধরার আগেই সেই ডিফেন্ডার ডকসন পুসলাস রেফারি, সহকারী রেফারির চোখ ফাঁকি দিয়ে ইব্রাহিমের বুকের ওপর হতে ডানহাত দিয়ে বলটা নামিয়ে আনলেও রেফারি দেখে ফেলেন। সঙ্গে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন এবং ডিফেন্ডার ডকসন পুসলাসকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে লাল কার্ড দিয়ে মাঠ হতে বের করেন। তপু বর্মন পেনাল্টি হতে গোল করেন, গোলকিপার সুজন পেরেরাকে এক পাশে ফেলে দিয়ে অন্যপাশ দিয়ে বল জালে রাখেন ১-০।
টিভির পর্দায় মালদ্বীপের জাতীয় স্টেডিয়ামে লঙ্কান দর্শক দেখা গেছে কম। সারাক্ষণ বাংলাদেশের দর্শকদের চোখে পড়েছে। তপুর গোলের সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশিরা যেভাবে গগনবিদারী আওয়াজ করল তাতে অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া, ইব্রাহিম, বিশ্বনাথ, সুমন, রেজা, তারিক কাজী, জুয়েল রানারা যেন আরো বেশি চাঙ্গা হলেন। তাদের কাছে মনে হচ্ছিল দেশের মাটিতে খেলা হচ্ছে। ১০ জনের শ্রীলঙ্কাকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশ। বরং শ্রীলঙ্কার গোলকিপারের ভুলে বক্সের সামনে ফ্রি কিক পেয়েও জামাল ভুঁইয়া দৃষ্টিকটু শট করে সুযোগ নষ্ট করেছেন।
