ই-কমার্সে নজরদারি

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২১, ২১:৫০

বৈশ্বিক মহামারিতে ই-সেবা বেড়েছে। আর প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে ই-কমার্স কারবারিরা। পণ্য অর্ডারের দুইমাস অপেক্ষার পরও (কোম্পানির নিয়ম-নীতির শর্ত অনুযায়ী) তা না পাওয়াকে অথবা নিম্নমানের পণ্যপ্রাপ্তিকে ই-কমার্স প্রতারণা বলা হয়ে থাকে। বর্তমানে সরকারও ই-কমার্স প্লাটফর্মকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বেশ কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে ই-কমার্স মানুষের আস্থার প্রতিদান দিতে অনেকটাই ব্যর্থ হচ্ছে। চলতি বছর জুলাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ই-কমার্সসংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করেছে। সেই নীতিমালায় বলা হয়েছে, অনলাইনে কেনার সময়ই বিক্রেতাকে বলতে হবে যে, ক্রেতা শহরের হলে ৪ দিনের মধ্যে ও গ্রামাঞ্চলে হলে ১০ দিনের মধ্যে পণ্য পৌঁছাতে হবে। ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছানোর রিসিভিং রিসিট অনলাইনে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে, তারা বিক্রেতাকে টাকা দেবে, তার আগে নয়। ই-কমার্স সম্পর্কে সজাগ-সচেতন হওয়ায় প্রশাসন ধন্যবাদ পেতেই পারে।

ইতিমধ্যে এই বর্ধিষ্ণু ডিজিটাল বাণিজ্য বিশেষ করে ই-কমার্স খাত নিয়ে বেশ সমালোচনাও হয়েছে। কিছু কিছু ই-কমার্স কোম্পানির পণ্য কিনে ভোক্তাদের ঠকে যাওয়া, বিক্রেতা কর্তৃক নিম্নমানের পণ্য প্রদান, টাকা নিয়ে পণ্য না দেওয়া, পণ্য বিক্রির পরেও গ্রাহক কর্তৃক পণ্য গ্রহণ না করা বা ফিরিয়ে দেওয়াসহ কিছু ই-কমার্স কোম্পানির অনেকটা ব্যাংকের মতো আচরণ করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

পণ্য কিনে অনেক ক্রেতার প্রতারিত হওয়ারও অভিযোগ এসেছে। অনলাইনে এক ধরনের পণ্য প্রদর্শন করে ডেলিভারি দিচ্ছে নিম্নমানের বা অন্য পণ্য। অনেক সময় অর্ডার নিয়ে পেমেন্ট পাওয়ার পর পণ্য ডেলিভারি না দিয়ে ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। ফলে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছে এবং অনলাইনে কেনাকাটায় আগ্রহ হারাচ্ছে। অনলাইন ব্যবসায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত যথাযথ আইনি কাঠামোতে আনা দরকার, যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতারণার আশ্রয় নিলেও সহজে গ্রাহকের ক্ষতিপূরণ পাওয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

ই-কমার্সের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক অনলাইন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়্যার হাউজ থাকতে হবে। থাকতে হবে ডেলিভারি ভ্যান ও দক্ষ কর্মীবাহিনী, যারা ঢাকা মহানগর ও দেশের সব শহর ও উপজেলা পর্যায়ে পণ্য যথাসময়ে ডেলিভারি দিতে পারে। আমরা বলব, সরকার যদি সত্যিই ই-কমার্সের উন্নতি চায়, তাহলে এর পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা, যা হবে যুগোপযোগী ও অগ্রগামী চিন্তার, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এখনই এই ই-কমার্স-এর লাগাম টেনে ধরা জরুরি। নীতিমালার বাইরে এদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হবে। বাকি সব অনলাইন বিজনেস স্থগিত করে নতুন নীতিমালার আলোকে তাদের পুনরায় বিজনেস চালু করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

ধোঁকা-প্রতারণা এক মারাত্মক ব্যাধি। রাষ্ট্রীয় আইনেও এটি জঘন্য অপরাধ। দেশের প্রচলিত আইনে ৪১৫ ও ৪২০ ধারায় এ অপরাধ চিহ্নিত। ধোঁকা-প্রতারণায় ৪২০ ধারায় সবচেয়ে বেশি মামলা হয়। এ আইনে যার শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব অপরাধে রয়েছে ১০ বছর পর্যন্ত কারদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান।

ই-কমার্সের নামে প্রতারণা বন্ধ হোক। সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে নিয়ম-নীতির যথাযথ প্রয়োগে ই-কমার্স এগিয়ে যাক—এটাই প্রত্যাশা।

যশোর