মিজানুর রহমান
অনেকেই ভেবে থাকেন—যদি বিদেশ যেতাম টাকার মালিক হতাম, দুখের দুয়ার বন্ধ হয়ে যেত। এমন আশায় দিন কাটছে অনেকের। এসব আশা করা ভুল, সবই ভুল। আমার বেলাও এমন হয়েছিল!
বিদেশ জীবনে বিশাল এক সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হয়। সারা দিনের অক্লান্ত পরিশ্রম শেষে যখন বাসা ফিরি, মনটা চায় একটু আরামের শ্বাস নিতে; কিন্তু না প্রবাসে এসব চলবে না। রান্না করে খেতে হবে।
প্রবাসীদের নিজের চাওয়াগুলো হারিয়ে ফেলে এটা বাস্তব কথা। বিদেশ এলেন আর বেঁচে গেলেন এমন ভাবনা ভুল। মালিক বা কোম্পানির কত কথা যে শুনতে হয় প্রতিনিয়ত! এক কথায় আমরা ওদের দাস। তবুও মাস শেষে ঘাম ঝরা পরিশ্রমের পয়সা হাতে এলে মনটা খুশি হয়। আপনি প্রবাসী! মন চাচ্ছে তেলের পিঠা, কুলি পিঠা, ঝাল পিঠা ইত্যাদি ইত্যাদি খেতে, কিন্তু পাবেন খেতে? ভাত তরকারি রান্না করে খেতেই তো অবস্থা কাহিল। বছরের পর বছর আশাগুলো বুকের মাঝেই থাকে। হয় না আশা পূরণ। অথচ আপনার আয়ের টাকায় দেশে আপনার পরিবার মজার খাবার, সুন্দর পোশাক, আমোদপ্রমোদে আছে। নিজের পোশাক বলতে প্রয়োজনের বাইরে তেমন ভালো পোশাক কমই পরেন প্রবাসীরা। তিন-চার বছর পর দেশে গেলে তখন হয়তো হাতঘড়ি, জুতা, প্যান্ট ইত্যাদি কেনা যায়।
ছোট বোন ছোট ভাইয়ের বিয়ে, বন্ধুবান্ধবের বিয়ে—এসব সামাজিক অনুষ্ঠান থেকেও কত দূরে। প্রবাস আসলেই একটা জেলখানা। মা-বাবা, ভাইবোন, স্ত্রী-সন্তান তাদের দীর্ঘশ্বাস সবসময় পড়ে—কখন আমাদের প্রিয় মানুষটি আসবে দেশে। অপেক্ষা বড় বেদনাদায়ক। কী যে কষ্ট জমা থাকে বুকে, প্রবাসীর পরিবারকে জিজ্ঞেস করলে কিছুটা জানা যায়। আমরা তো উপর থেকে সব ভালোই দেখছি; প্রবাসী মানে সে অনেক সুখী বা জীবনটা পরিপাটি এমন ধারণা ভুল।
আসুন প্রবাসীদের ভালোবাসি, তাদের খোঁজ রাখি।
সৌদি আরব প্রবাসী
