বিজ্ঞাপন প্রচার করা বিদেশি সব চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২১, ২২:৫৭

বিজ্ঞাপন প্রচার করা সব বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলের সমপ্রচার বন্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্যাবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন। সরকারি নির্দেশনায় গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে ক্যাবল অপারেটররা চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বন্ধ করেছে। সরকারি সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, যেসব বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়, সেগুলো বাংলাদেশে দেখানো যাবে না। অর্থাত্ ক্লিনফিড ছাড়া কোন বিদেশি চ্যানেল বাংলাদেশে চালানো যাবে না। কেবল অপারেটররা বলছেন, বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান প্রচার করে- এমন বিদেশি চ্যানেলগুলো থেকে বিজ্ঞাপন কেটে বাদ দিয়ে সমপ্রচার করা সম্ভব নয়। এ কারণে তারা চ্যানেলগুলো দেখানোই বাদ দিয়ে দিয়েছেন।

সরকারি সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে পালন হচ্ছে কিনা সেটা পর্যবেক্ষণের জন্য ঢাকার দু'টি কেবল অপারেটরের কার্যালয়ে শুক্রবারই মোবাইল কোর্ট অভিযান চালিয়েছে। এদিকে এসিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পর থেকে দেশে স্টার জলসা, বিবিসি, সিএনএন, আল-জাজিরা, ডয়চে ভেলে, এনডিটিভি, এবিসিসহ প্রায় ৮৫ টি বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ রয়েছে। তবে সোসাল মিডিয়া এবং ওটিটি প্লাটফর্মে এ বিদেশি বিজ্ঞাপনসহ সকল ধরনের অনুষ্ঠান সম্প্রচার চালু রয়েছে।

এ ব্যাপারে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ক্লিনফিড (বিজ্ঞাপনমুক্ত) না চলার কারণে দেশের অর্থনীতি, শিল্পী, শিল্প, সংস্কৃতি ও মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেকারণেই আমরা এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, বিদেশি টিভি ক্লিনফিড না চালানোর প্রেক্ষিতে কয়েক হাজার কোটি টাকা বিদেশের চ্যানেলে লগ্নী হয়, যা দেশে লগ্নী হতো। আইনভঙ্গ করে বিদেশি চ্যানেলে যদি বিজ্ঞাপন না দেখানো হতো, তবে দেশের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি লাভবান হতো, অর্থাত্ দেশের অর্থনীতি লাভবান হতো। এ কারণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।          ক্লিনফিড চ্যানেল সম্প্রচারের ব্যাপারে গত মাসের শুরুতে কেবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন, অ্যাটকো, বিদেশি চ্যানেলের ডিস্ট্রিবিউটর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বৈঠক শেষে সেদিন তিনি বলেন, ‘ক্লিনফিড ছাড়া বিদেশি চ্যানেল সমপ্রচার করলে আইন প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ৩০ সেপ্টেম্বরের পরে দেশে কোনো অবস্থাতেই ক্লিনফিড ছাড়া বিদেশি চ্যানেলকে চালাতে দিতে পারি না। এরপর আইন প্রয়োগ করা হবে। ক্লিনফিড চলছে কিনা সেটি নিয়ে আমরা সারা দেশে এনফোর্সমেন্টে যাব।’

ওটিটি প্লাটফর্ম নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ওটিটি প্লাটফর্ম নিয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, খসড়া সম্পন্ন হয়েছে। নীতিমালা পাশ হলে, প্লাটফর্মগুলোকে তা অনুসরণ করতে হবে এবং কোনো বাত্যয় হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, গত ১৩ই সেপ্টেম্বর তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। এতে বলা হয়- ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ তারিখের পর ক্লিনফিড ছাড়া কোনো বিদেশি চ্যানেল সমপ্রচার করা যাবে না। তথ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির প্রেক্ষিতে ক্যাবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন একটি সাধারণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। প্রতিটি বিদেশি চ্যানেল ক্লিক করলেই বিজ্ঞপ্তিটি ভেসে ওঠে।

দর্শকদের উদ্দেশে কেবল অপারেটরদের দেওয়া একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হচ্ছে, সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের পর বিজ্ঞাপনযুক্ত কোনো বিদেশি চ্যানেলের সমপ্রচার করা যাবে না। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক কেবল অপারেটররা বিজ্ঞাপন থাকা বিদেশি চ্যানেলের সমপ্রচার বন্ধ রেখেছে। এর ফলে সৃষ্ট অসুবিধার জন্য তাঁরা দুঃখিত।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দেশে প্রায় ৩ হাজার ২শ বৈধ লাইসেন্সধারী অপারেটর রয়েছে। এদিকে কেবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ বলেন, বিদেশি চ্যানেলগুলোর দেশীয় পরিবেশকদের সঙ্গে বিজ্ঞাপন ছাড়া অনুষ্ঠান দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করেছিল। কিন্তু বিদেশি চ্যানেলগুলো তাতে রাজি হয়নি। উপায় না দেখে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদেশি চ্যানেলগুলোর সমপ্রচার বন্ধ রেখেছেন তারা। সরকার পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো নির্দেশনা দিলে বা পদক্ষেপ নিলে, তারা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন, দেশের কোন কেবল আপারেটর এসব চ্যানেল দেখাচ্ছে না, কারণ সরকার এটা নিয়ন্ত্রণ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, যারা আইপি টিভি চালাচ্ছে তারা কিন্তু বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ রয়েছে। সিদ্ধান্তটি সবার বেলায় প্রযোজ্য হলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। আনোয়ার পারভেজ বলেন, কেবল অপারেটিং শিল্পখাতে ৫ লক্ষাধিক লোক সম্পৃক্ত। এ শিল্প শেষ হয়ে যাচ্ছে। ওটিটিসহ অন্য প্ল্যাটফর্মে কিন্তু সব চ্যানেল চলছে। এখন এটা যদি অন্য খাতে চলে যায় তাহলে পথে বসবে কেবল অপারেটররা।

তথ্যমন্ত্রীকে টেলিভিশন মালিক ও সমপ্রচার সাংবাদিকদের অভিনন্দন

এদিকে বিদেশি টিভি চ্যানেলের বিজ্ঞাপনমুক্ত বা ক্লিনফিড সমপ্রচার বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে দেশের টিভি চ্যানেল মালিকদের সংগঠন এসোসিয়েশন অভ টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স-এটকো এবং টিভি চ্যানেলগুলোতে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দের সংগঠন ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার-বিজেসি। দেশের সকল টিভিতে মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে স্ক্রল প্রচারের পাশাপাশি বিজেসি এনিয়ে লিখিত বিবৃতি দিয়েছে।