রাজশাহীর নদ-নদী রক্ষায় সরকারের কাছে ১৩ সুপারিশ বাদশাহর

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২১, ২২:৫৮

রাজশাহী অঞ্চলের নদনদী ও খালবিল রক্ষায় সরকারের কাছে ১৩টি সুপারিশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা। ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী জেলা ও মহানগরীর সীমান্ত অবকাশ সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় গত বৃহস্পতিবার সুপারিশগুলো তুলে ধরেন তিনি। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী। প্রবন্ধে তিনিও ১৩টি সুপারিশ তুলে ধরেন।

সুপারিশগুলো হলো—অনতিবিলম্বে সরকারি-বেসরকারি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পদ্মা ও শাখা নদীগুলোকে উদ্ধার, পদ্মা নদীর বালু উত্তোলনে নীতিমালা প্রণয়ন এবং নদীর তীর থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ, রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের ১৯টি স্লুইস গেট সচল রাখা, শহরের মধ্য দিয়ে একসময় প্রবাহিত হওয়া নদীগুলো দখলমুক্ত করে পদ্মার সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপন, শহরের পানি বারনই নদীতে পতিত হওয়ার সব বাধা দূর করা, ১৮৯৭ সালে খনন করা ‘নারদ’ নদ ও ‘বৈরাগী’ নদ পুনরায় সংস্কার করে পদ্মার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা। এছাড়াও সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—পবার হরিপুর ও দামকুড়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত চিনারকুপ নদীকে পুনরায় খনন করে আগের মতো পদ্মার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, শহরের তরল বর্জ্যকে পরিশোধন করে বারনই নদীতে প্রবেশের ব্যবস্থা করা ও ভুগরইলবিল ও মতিয়ার বিলে তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণ করা, নদীর প্রতি বৈরী আচরণের জন্য যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা, পদ্মার মূল প্রবাহে সারা বছর পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা, ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণীত আন্তর্জাতিক পানিবিষয়ক সনদে সই করা এবং পদ্মায় শুষ্ক ও ভরা মৌসুমে প্রতিদিন কী পরিমাণ পানি প্রবাহিত হয় তার হিসাব জনসম্মুখে তুলে ধরা।

উপস্থিত বক্তাদের দীর্ঘ আলোচনা শেষে বক্তব্য দেন এমপি ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেন, ভারতের বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তাদের বিধান সভায় বলেছেন, ‘ফারাক্কা বাঁধ হচ্ছে বিহারের জন্য একটি অভিশাপ’। তার কথা শুনে আমি তাকে একটি চিঠি লিখেছিলাম। চিঠিতে বলেছিলাম, ‘আপনি যদি ভারতের পার্লামেন্টে একই বক্তব্য তুলে ধরেন, তাহলে আমাদের পার্লামেন্টেও আমরা একই বক্তব্য তুলব। ফারাক্কা বাঁধ ভারতের জন্যও অভিশাপ, বাংলাদেশের জন্যও অভিশাপ। অতএব এই বাঁধটি অপসারণ করে পদ্মার প্রবাহকে সচল রাখতে হবে।’

বাদশা বলেন, আমাদের রাজশাহী শহরে উন্নয়ন হয়েছে অনেক এটি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু অনুন্নয়ন হয়েছে এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অনুন্নয়নের মধ্যে সব থেকে বেশি যেটি হয়েছে তাহলো শহরে একের পর এক পুকুর ভরাট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুকুর ভরাট করার বিষয়ে আমাদের আইনগত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু সব থেকে অবাক করা বিষয় সরকারের প্রশাসন পুকুর ভরাট করার বিষয়টি নিয়ে চোখ বন্ধ করে থাকে। আমার কাছে অনেকে অভিযোগ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নাকি পুকুর ভরাট করা পাহারা দেয়, তাহলে কি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার কাজ করবে? আমি মনে করি, যেসব পুকুর ভরাট করা হয়েছে, সেগুলো দ্রুত উন্মুক্ত করা হোক।

ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর সভাপতি লিয়াকত আলী লিকুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবুর পরিচালনায় সভায় পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক তোতা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) মহানগর সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।