জলবায়ু সুবিচার প্রতিষ্ঠায় অর্থায়ন প্রাপ্তি যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি এর যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ‘ইয়ুথ অ্যাকশন: ইমপ্রুভমেন্ট ক্লাইমেট ফাইন্যান্স ইফিকেসি ইন বাংলাদেশ’ বিষয়ক সংসদ সদস্যদের সাথে এক পরামর্শ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশ, প্রতীকী যুব সংসদ, দ্য আর্থ সোসাইটি এবং ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের যৌথ আয়োজনে এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রকাশ কর্মসূচির সহায়তায় এই পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারপার্সন তানভীর শাকিল জয় এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আহসান আদেলুর রহমান ও কল্পনা চাকমা। এ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের কনভেনার নাহিম রাজ্জাক এমপি, সংসদ সদস্য ওয়াসেকা আয়েশা খান এবং মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। দ্য আর্থ সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন মিয়ার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রকাশ কর্মসূচির আইবিপি ম্যানেজার - ক্লাইমেট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্ডিউসড মাইগ্রেশন আবুল বাশার, প্রতীকী যুব সংসদের চেয়ারপার্সন আমিনুল ইসলাম, প্রকল্প ব্যবস্থাপক ময়ূরী আক্তার টুম্পা, সাব্বির হাসান, ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের ঢাকা ইউনিটের সমন্বয়ক রুহুল আমিন রাব্বী প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু অভিঘাতের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম। তাই জলবায়ু সুশাসন নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তরুণদের অংশীদারিত্বের কোন বিকল্প নেই। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। উন্নত ও দূষণকারী রাষ্ট্রগুলো কখনোই তাদেও প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে না বলে উল্লেখ করেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি বলেন, তারা কার্বন নি:সরণও হ্রাস করছে না আর আমাদের মত ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণও প্রদান করছে না। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদেরকে অধিকার ভিত্তিক প্রক্রিয়াতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
সংসদ সদস্য আহসান আদিলুর রহমান বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আমরা সংসদ সদস্যরা তরুণদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চাই। তাদের চিন্তা-চেতনা ও আইডিয়া নিয়ে নীতি-নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে চাই। তাদের চাহিদার কথা জাতীয় সংসদেও বেশি করে তুলে ধরতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কার্বন নির্গমনকে হ্রাস করাকে আসল কার্যক্রম উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধুমাত্র অভিযোজনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানীতে রূপান্তরের তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে হবে।
ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারপার্সন তানভীর শাকিল জয় এমপি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মত উত্তরবঙ্গ জলবায়ু অভিঘাতে বিপর্যস্ত। ফলপ্রসূ কার্যক্রমের মাধ্যমে তৃণমূলের মানুষের উপকারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জলবায়ু অর্থায়ন প্রাপ্তি যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি করে জলবায়ু অর্থায়নের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত না করতে পারলে জলবায়ু সুবিচার প্রতিষ্ঠা পাবে না। সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং তরুণদের যৌথ অংশীদারিত্বই পারবে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে।
সংসদ সদস্য কল্পনা চাকমা জানান,পার্বত্য চট্টগ্রামেও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। পাহাড় ধস সহ সুপেয় পানির সংকট রয়েছে সেখানে। এসব সংকট মোকাবিলায় একসাথে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই সংসদ সদস্য।
আয়োজকসূত্রে প্রকাশ, ক্লাইমেট পার্লামেন্টের এক প্রতিনিধি দল আগামী ২-৩রা অক্টোবর জলবায়ু সংকটপ্রবণ জেলা সাতক্ষীরা ও খুলনা এবং ৬-৭ অক্টোবর গাইবান্ধা ও নীলফামারী পরিদর্শন করবেন। এ সময় প্রতিনিধি দল বেশকিছু অভিযোজন ও প্রশমন সংক্রান্ত প্রকল্প পরির্দশনসহ স্থানীয় মানুষ ও অংশীজন, প্রশাসনের সাথে আলোচনায় মিলিত হবেন। পরিদর্শন শেষে ৯ অক্টোবর জাতীয় পর্যায়ে সংলাপের মাধ্যমে সংসদ সদস্য ও তরুণরা পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের পাশাপাশি কপ২৬ সম্মেলনে কিভাবে তৃণমূলের কন্ঠস্বর তুলে ধরা যায় সেই বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।
সভায় ক্লাইমেট প্লার্লামেন্ট বাংলাদেশের সদস্যদের জলবায়ু সংকট উপদ্রুত অঞ্চল পরিদর্শন কওে স্থানীয় পর্যায়ে ক্লাইমেট টক এবং জাতীয় সংলাপের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সময় ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের সচিবালয় দ্য আর্থ সোসাইটি এবং ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের সচিবালয় প্রতীকী যুব সংসদেও মধ্যে এক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ক্লাইমেট পার্লামেন্টের পক্ষে সমন্বয়কারী মোহাম্মদ মামুন মিয়া এবং ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের পক্ষে সোহানুর রহমান এই সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
