ভারত থেকে তেল ও বিদ্যুত্ আনার পর এবার এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। স্থলপথে পাইপলাইনের মাধ্যমে এ গ্যাস আসবে। সাতক্ষীরা সীমান্ত হয়ে এই এলএনজি দেশে ঢুকবে। এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপায় ও রূপরেখা নির্ধারণের কাজ চলছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ভারত নিজেও তেল এবং এলএনজি আমদানিকারক দেশ। তারপরেও খরচ সাশ্রয় বিবেচনায় ভারত থেকে তেল আমদানি করে বাংলাদেশ। এলএনজির ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হবে। ইতোমধ্যে ভারতের কয়েকটি কোম্পানি এলএনজি রপ্তানির প্রস্তাবও দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ভারত সফরে রয়েছেন। সফরকালে এ বিষয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। এলএনজির সম্ভাব্য পাইপলাইনটি পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ, স্বরূপনগর, বসিরহাট কিংবা হাসনাবাদ পয়েন্ট হয়ে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা দিয়ে প্রবেশ করবে। এ লাইন দিয়ে প্রাথমিকভাবে ২০২১ সালে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি শুরু করবে সরকার।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার সূত্র জানায়, ইন্ডিয়ান অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (আইওসিএল) এলএনজি রপ্তানির জন্য বাংলাদেশকে প্রথম প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাব পাওয়ার পর এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে এরই মধ্যে পাইপলাইন নির্মাণে অর্থায়নের জন্য আলোচনা করা হয়েছে। এখন দুই পক্ষ আমদানি-রপ্তানির বিভিন্ন শর্ত, প্রক্রিয়া এবং দাম নিয়ে আলোচনা করছে।
২০১৬ সালের ১১ জানুয়ারি আইওসিএল এলএনজি রফতানিতে আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন নির্মাণের জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব দেয়। পরে ২০১৬ সালের ১৩ জুন উভয় দেশের প্রতিনিধি দল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে এ বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে জ্বালানি বিভাগকে আইওসিএল এলএনজি রপ্তানির খসড়া চুক্তিপত্র পাঠায়। এটি পাওয়ার পর পর্যালোচনার জন্য জ্বালানি বিভাগ একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে। পরে পেট্রোবাংলার মাধ্যমে ক্রয় চুক্তির খসড়া আইওসিএলকে পাঠানো হয়। গত বছরের আগস্টে আইওসিএল পৃথক একটি ক্রয়চুক্তির খসড়া পেট্রোবাংলায় পাঠায়।
এদিকে ভারতের এইচ এনার্জিও বাংলাদেশে রূপান্তরিত এলএনজি গ্যাস রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে। খুলনার রূপসায় ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুেকন্দে এই এলএনজি সরবরাহ করতে চায় তারা। গত সপ্তাহে দেওয়া ওই প্রস্তাবনায় তারা নিজ খরচেই পাইপলাইন নির্মাণ করবে বলে জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য ১১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণ করতে হবে। এর মধ্যে কলকাতা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার এবং বেনাপোল থেকে যশোর পর্যন্ত ৪৬ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করতে হবে।
এছাড়া সরকার সুইজারল্যান্ড থেকেও এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দুই দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকও সই করা হয়েছে। ওই দেশের এস্ট্র ট্রান্সকো এনার্জি (এওটি) থেকে জাহাজে করে এই এলএনজি আমদানি করা হবে।
এ প্রসঙ্গে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমাদের জ্বালানি মিশ্রণে এলএনজির একটি বড় অংশ রয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক দামে ও টেকসই উপায়ে এলএনজি আমদানির পথ গ্রহণ করেছে সরকার। আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন নির্মাণের খরচও দুই পক্ষ বহন করবে।
