স্পোর্টস রিপোর্টার
মালদ্বীপের দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত বাংলাদেশ ফুটবল দল। সাফে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারায় সেখানকার বাংলাদেশিরা এখন বেশ আনন্দেই রয়েছেন। মালদ্বীপের মালে থেকে বাংলাদেশের দলের তারকা ডিফেন্ডার তপু বর্মন বললেন, ‘বাংলাদেশি প্রবাসী যারা আছেন তারা খুব খুশি আমরা বিদেশের মাঠে একটা জয় উপহার দিতে পেরেছি। হোটেলে দর্শক ঢোকার সুযোগ নেই। তবে স্টেডিয়ামে যাওয়া আসার পথে বাংলাদেশিদের ভিড় চোখে পড়ছে। দেখামাত্রই আওয়াজ তুলছে। ভালো খেলার প্রেরণা দিচ্ছে।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আক্রমণ ভাগে ফিনিশিংয়ের অভাব ছিল। ভারতের বিপক্ষে সেই সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে সেটা জানা আছে বাংলাদেশ ফুটবল দলের। রক্ষণভাগ হতে ডিফেন্ডার তপু বর্মন কতবার প্রতিপক্ষের রক্ষণে গিয়ে গোলের চেষ্টা করবেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমার্ধের যোগ হওয়া সময়ে হেড করে গোলটা করেই ফেলেছিলেন প্রায়। লঙ্কার অধিনায়ক গোলকিপার সুজন পেরেরা অসাধারণ দক্ষতায় বাইরে বল ফেলে গোল বাঁচিয়েছিলেন। বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। আফসোসটা পোড়াচ্ছে দেশ সেরা ডিফেন্ডার তপু বর্মনকে। ওটা যদি গোল হয়ে যেত তাহলে ম্যাচের স্কোর লাইনটাও অন্যরকম হতে পারত। মাঠে নামলে তপুর সঙ্গে ইয়াসিনের মানসিক বুঝাপড়াটা দারুন। ইয়াসিন বল পেলে কখন কোথায় ফেলবেন সেটা তপু-ই ভালো বোঝেন। ইয়াসিনের পায়ে বল ঠেলে দিয়ে তপু নিজেই শ্রীলঙ্কার রক্ষণের ফাঁক খুঁজে নিয়ে সেখানে চলে যান। ইয়াসিন ঠিক সেখানেই তপুর মাথায় মাপা বল রাখেন। লঙ্কান ডিফেন্ডাররা কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাথা লাগিয়ে দেন তপু। দুর্ভাগ্য শ্রীলঙ্কার গোলকিপার সজাগ ছিলেন। তপু বললেন, ‘এভাবে ওপরে গিয়ে মাথা লাগানোর অভ্যাস আমার আছে। গোলও করেছি। বসুন্ধরার অনুশীলনেও অনেকবার গোল করেছি আমি। জাতীয় দলের হয়ে গোল করেছি।’ ফিনিশিং নিয়ে কথা বলতে গেলে তপু বললেন, ‘আমি ওপরে গিয়ে গোলের চেষ্টা করি সেটা আমার সেকেন্ড অপশন। এটা আমার দায়িত্ব না। আমার প্রথম কাজ হচ্ছে টিম সেভ করা। রক্ষণ লাইনটাকে একসঙ্গে রাখা। গোলকিপারকে সহযোগিতা করা। সেটপিস হলে আমি যাই। আর এখন এই যাওয়াটা আমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আসলে এখন আমাদের কাছে সবচেয়ে কথা হচ্ছে আমরা শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট পেয়েছি। এটা প্লেয়ারদের শক্তিটাকে বাড়াবে।’
