ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনাকালীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা এবং আনুষঙ্গিক আরো কিছু কারণে কক্সবাজার জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বাল্যবিবাহ। করোনাকালীন কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে বাল্যবিবাহর হার বেড়েছে ৮২ শতাংশ। ঐ জেলার ৯টি উপজেলার ৩২টি ইউনিয়ন এবং তিনটি পৌরসভায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ফাউন্ডেশন পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। গতকাল শনিবার সকালে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে
সংস্থাটির পক্ষ থেকে গবেষণার এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ফাউন্ডেশন অনলাইনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাল্যবিবাহর জাতীয় গড় হার ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ হলেও ২০২০ সালের মার্চ মাসের পর থেকে দেশের প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে কক্সবাজার জেলায় বাল্যবিবাহর হার কয়েকটি জেলায় জাতীয় এই হারের চেয়ে অনেক বেশি। ঈদগাঁও উপজেলায় এই হার সর্বোচ্চ ৮২ শতাংশ এবং এর পরেই রয়েছে উখিয়া উপজেলা-৭৫ শতাংশ।
গবেষণার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে সংস্থার সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ঈদগাঁও ও উখিয়ার পরেই রয়েছে রামু উপজেলা, যেখানে বাল্যবিবাহর হার ৭২ শতাংশ, টেকনাফে ৬৬ শতাংশ, মহেশখালীতে ৬১ শতাংশ, কুতুবদিয়ায় ৫৪ শতাংশ, কক্সবাজার সদরে ৫১ শতাংশ, সবচেয়ে কম চকরিয়া ও পেকুয়ায় যথাক্রমে ৩২ শতাংশ এবং ২৬ শতাংশ। বাল্যবিবাহর বহুমাতৃক প্রভাব নিয়ে অপর এক উপস্থাপনায় সংস্থাটির যুগ্ম পরিচালক মো. মুজিবুল হক মুনির বলেন, বাল্যবিবাহর ফলে দেশে নারীর আয় ৯ শতাংশ এবং জাতীয় আয় ১ শতাংশ কমে যায়। বাল্যবিবাহ নিরসন করে ২০৩০ সাল পর্যন্ত শিক্ষা বাজেটে ১১ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন যে, করোনাকালীন বাল্যবিবাহর হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ মনে করেন দীর্ঘ সময় স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় এ সময়ে বাল্যবিবাহর হার বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এছাড়া ২৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এর কারণ অর্থনৈতিক দৈন্য এবং ২২ শতাংশ মনে করেন করোনাকালে কর্মহীন হওয়ায় ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত ভেবে অনেকেই ছেলেমেয়ের বিবাহ দিয়েছেন।
সাংবাদিক ফারুক আহমেদ বলেন, উখিয়াতে কয়েক বছর আগে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করা হয়, তাই করোনাকালীন বাল্যবিবাহ বৃদ্ধির এই হার আশঙ্কাজনক। বাল্যবিবাহ রোধ, অর্থনৈতিক সহায়তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।
কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন হুমায়ুন কবির জুসান, এইচ এম নজরুল ইসলাম, সরোয়ার আজম মানিক, এহসান আল কুতুবী, ওবায়দুল হক চৌধুরী, নেজাম উদ্দিন, ইমাম খাইর, শাহিনুর ইসলাম, ফেরদৌস আরা রুমি, ইকবাল উদ্দিন প্রমুখ।
