টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই সুশাসন ও নাগরিক অধিকার

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৭

 

যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সুশাসনের অগ্রগতি সাধন ও নাগরিক অধিকারের প্রতি সচেষ্ট হওয়া দরকার। বাংলাদেশি পণ্যের সর্ববৃহত্ বাজার হলো যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া দেশটি বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বিনিয়োগ করছে। ঐ অবস্থায় মার্কিন বিনিয়োগকারী ও নীতি নির্ধারকরা মনে করেন, গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধা, মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাংলাদেশের অভিন্ন লক্ষ্য হওয়া উচিত। দেশ পরিচালনা পদ্ধতি হতে হবে স্বচ্ছ। আইনের শাসন সমুন্নত রাখা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখ্য উপ-সহকারী মন্ত্রী টমাস এল ভাজডা সোমবার সকালে ঢাকায় তার সরকারের এই নীতির কথা তুলে ধরেন। তিনদিন ঢাকা সফর শেষে গতকাল আমেরিকান ক্লাবে ইত্তেফাক প্রতিনিধিসহ তিনজন সাংবাদিকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মার্কিন এই কর্মকর্তা।

টমাস এল ভাজডা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রণীত ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় নীতি ও কৌশলে (ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল) বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশ। গুরুত্বপূর্ণ ও ভূরাজনৈতিক অবস্থা, উদার গণতন্ত্র ও সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে বিশেষভাবে গণ্য করা হয়। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের মূল মর্মকথা হলো ন্যায়ভিত্তিক ও দায়িত্বশীল শাসন ব্যবস্থা তথা সুশাসন।

মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ঢাকা সফরকালে সরকারসহ বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিনিধিদের এ বিষয়ে অবহিত করেছি ও বার্তা দিয়েছি। কারণ এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়বে। নিরাপত্তা ক্ষেত্রে টেকসই সহযোগিতা বাড়বে। এর ফলে দেশে স্থিতিশীলতা আসবে ও দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি অর্জিত হবে।

তিনি ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল সম্পর্কে বলেন, এর আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আশার কথা বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও সংযোগ আরো ঘনিষ্ঠ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মার্কিন উপ সহকারী মন্ত্রী আরো বলেন, কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও দ্রুত সম্প্রসারণশীল অর্থনীতি বিবেচনায় বাংলাদেশকে গত বছর ৪০ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় রাডার সিস্টেম উন্নয়ন, আধুনিকায়ন, বঙ্গোপসাগরে টহল সক্ষমতা বাড়াতেই এই সহায়তা।

এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, চীনের গৃহীত ‘বেল্ট এন্ড রোড ইনিসিয়েটিভ’ যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতির বিরোধী নয়। তবে চীনা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের স্বচ্ছতা, পদ্ধতি, পণ্যের মান, স্থায়িত্ব এসব বিষয় বিবেচনা করা দরকার। পাশাপাশি মার্কিন বিনিয়োগের গুণাগুণ তুলনা করতে হবে।